চায়ের দোকান সামলে গঙ্গা রক্ষায় লালু ভুলু দুই ভাইয়ের অনন্য লড়াই

কলকাতা: উত্তর কলকাতার কুমারটুলি ঘাটের ব্যস্ত স্ট্র্যান্ড ব্যাংক রোড। সেখানে একটি ছোট্ট চায়ের দোকান চালান দুই ভাই—চন্দন ও সন্দীপ দে, যাঁদের এলাকাবাসী লালু ও ভুলু নামেই বেশি চেনেন। নিজেদের যৎসামান্য আয়ের এই দোকান সামলানোর পাশাপাশি তাঁরা এখন এক মহৎ লড়াইয়ে নেমেছেন, যার লক্ষ্য পবিত্র গঙ্গা নদীকে দূষণমুক্ত রাখা।
উত্তর কলকাতার গঙ্গা সংলগ্ন বিভিন্ন গাছ ও জনবহুল এলাকায় নিজেদের উদ্যোগে সচেতনতামূলক ফ্লেক্স ও পোস্টার লাগিয়েছেন এই দুই ভাই। কুমারটুলি গঙ্গা সংলগ্ন চক্ররেল লাইনের ধার থেকে শুরু করে সুতানুটি পুলিশ ফাঁড়ির বাগান—সবত্রই ঝুলছে তাঁদের সতর্কবার্তা। গঙ্গার ঘাটে বা যত্রতত্র আবর্জনা, প্লাস্টিক, মাটির ভাঁড় কিংবা কাগজের কাপ না ফেলার জন্য সাধারণ মানুষের কাছে বিনীত আবেদন জানাচ্ছেন তাঁরা।
পেশায় চা বিক্রেতা চন্দন দে ওরফে লালুবাবু জানান, ক্রমবর্ধমান গঙ্গা দূষণ নিয়ে তাঁরা অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। বাবার মৃত্যুর পর ২০২০ সাল থেকে দুই ভাই দোকানের দায়িত্ব নিলেও পরিবেশের প্রতি দায়বদ্ধতা ভোলেননি। তাঁর কথায়, “নদী ও প্রকৃতি না বাঁচলে আমরাও বাঁচব না। সেই তাগিদ থেকেই আমাদের এই ক্ষুদ্র চেষ্টা।” এর আগেও তাঁরা এমন উদ্যোগ নিয়েছিলেন, কিন্তু ঝড়ে অনেক পোস্টার নষ্ট হয়ে যাওয়ায় আবারও নতুন করে প্রচার শুরু করেছেন।
গঙ্গার ঘাটগুলোতে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ ঘুরতে আসেন। ফেরি পরিষেবা ও স্থানীয় দোকানপাটের ভিড়ে অনেক সময় অজান্তেই নদী ও সংলগ্ন পার্কে আবর্জনা জমে যায়, যা শেষ পর্যন্ত গঙ্গায় গিয়ে পড়ে। লালু-ভুলুর এই নিরলস প্রচারকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এলাকার পরিবেশকর্মীরাও। দীর্ঘদিনের সবুজ আন্দোলনের কর্মী সত্যরঞ্জন দলুই বলেন, সাধারণ দুই ভাইয়ের এই সচেতনতা অভিযান অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তাঁদের মতো সবাই এগিয়ে এলে গঙ্গা নদীকে রক্ষা করা অবশ্যই সম্ভব।