বেঁচে থেকেও ভোটার তালিকায় মৃত তৃণমূলের হাতে নাতে প্রমাণে চরম অস্বস্তিতে নির্বাচন কমিশন

বেঁচে থেকেও ভোটার তালিকায় মৃত তৃণমূলের হাতে নাতে প্রমাণে চরম অস্বস্তিতে নির্বাচন কমিশন

মঙ্গলবার সকালে বেলুড় মঠে দাঁড়িয়ে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের আশ্বাস দিয়েছিলেন নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। কিন্তু সূর্যাস্তের আগেই সেই দাবিকে কার্যত চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিল তৃণমূল কংগ্রেস। ভোটার তালিকায় জ্যান্ত মানুষকে ‘মৃত’ সাজানো এবং বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগে সরাসরি কমিশনকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাল শাসকদল।

মঙ্গলবার বিকেলে হাওড়া জেলা সদর তৃণমূল কার্যালয়ে এক নজিরবিহীন সাংবাদিক সম্মেলন করেন রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ রায় এবং জেলা তৃণমূল সভাপতি গৌতম চৌধুরী। সেখানে বালি বিধানসভা কেন্দ্রের এমন পাঁচজন ভোটারকে সশরীরে হাজির করা হয়, যাঁদের নাম ভোটার তালিকায় মৃত, ডিলিটেড বা বিচারাধীন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এঁদের মধ্যে বালির ১৪২ নম্বর পার্টের ভোটার পম্পা দে ক্ষোভ উগরে দিয়ে জানান, ২০০২ সাল থেকে তিনি নিয়মিত ভোট দিলেও এবারের চূড়ান্ত তালিকায় তাঁকে ‘মৃত’ দেখানো হয়েছে। বারবার বিএলও এবং ইআরও দপ্তরে নথি জমা দিয়েও কোনো সুরাহা মেলেনি।

একইভাবে বালির বাসিন্দা মৌসুমী ঘোষ ও অভয় সাহার নাম তালিকা থেকে মুছে ফেলা হয়েছে এবং আশফাক আহমেদ ও মুসা খানের নাম রাখা হয়েছে বিচারাধীন তালিকায়। এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে মন্ত্রী অরূপ রায় সরাসরি তোপ দেগে বলেন, বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দিয়ে কীভাবে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্ভব? কমিশনার মিথ্যাবাদীর মতো আচরণ করছেন। যুব সভাপতি কৈলাস মিশ্রের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের গাফিলতির কারণে বেলুড় মঠের মহারাজদের পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে।

উল্লেখ্য, চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় শুধুমাত্র বালি বিধানসভা এলাকাতেই ১ হাজার ১২৪ জনের নাম বাতিল হয়েছে এবং ১৪ হাজার ৩৩৫ জনের নাম রাখা হয়েছে বিচারাধীন হিসেবে। নির্বাচনের মুখে ভোটার তালিকায় এই বিপুল অসঙ্গতি নিয়ে এখন উত্তাল হাওড়ার রাজনৈতিক মহল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *