৬০ লক্ষ ভোটারের ভাগ্য ঝুলেই কি বাংলায় ভোটের বাদ্যি? মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিস্ফোরক ইশারা

৬০ লক্ষ ভোটারের ভাগ্য ঝুলেই কি বাংলায় ভোটের বাদ্যি? মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিস্ফোরক ইশারা

পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন নির্বাচনে ‘বিচারাধীন’ ভোটারদের অধিকার কি তবে অন্ধকারেই থেকে যাচ্ছে? দুই দিনের রাজ্য সফর শেষে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের মন্তব্যে এখন এই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে রাজ্য রাজনীতিতে। মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠকে তিনি যে ইঙ্গিত দিয়েছেন, তাতে স্পষ্ট যে কয়েক লক্ষ ভোটারের নাম চূড়ান্ত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার আগেই রাজ্যে ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হয়ে যেতে পারে।

এদিন জ্ঞানেশ কুমার জানান, রাজনৈতিক দল ও প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনার পর দিল্লিতে পর্যালোচনার পরেই ভোটের দিনক্ষণ জানানো হবে। তবে অ্যাডজুডিকেশন বা ভোটারদের যোগ্যতা যাচাইয়ের তালিকা প্রকাশের আগেই ভোট হবে কি না, সেই প্রশ্ন তিনি কৌশলে এড়িয়ে গিয়েছেন। কমিশনারের মতে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির তত্ত্বাবধানে যাচাইকরণ প্রক্রিয়া চলছে এবং শীর্ষ আদালতের নির্দেশ মেনেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে ভোটারের সংখ্যা ৬ কোটি ৪৪ লক্ষ ৫২ হাজার ৬০৯ জন। অর্থাৎ, ২০২৫ সালের তুলনায় এই সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষ কম। এর মধ্যে প্রায় ৬০ লক্ষ ‘বিচারাধীন’ ভোটারের নাম নেই। জ্ঞানেশ কুমার স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, সংবিধানের ৩২৬ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কেবল বৈধ ভারতীয় নাগরিকরাই ভোট দিতে পারবেন।

কমিশনের এই অবস্থান নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। শাসক দলের দাবি, এটি একটি সুপরিকল্পিত চক্রান্ত যাতে বিশাল সংখ্যক ভোটারকে প্রক্রিয়ার বাইরে রেখে বিজেপিকে সুবিধা পাইয়ে দেওয়া যায়। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, নির্বাচন কমিশন এই স্পর্শকাতর বিষয়ের দায়ভার সুপ্রিম কোর্টের ওপর ছেড়ে দিয়ে দ্রুত ভোটের পথে হাঁটতে চাইছে। যদি ভোট ঘোষণার পর কোনো আইনি জটিলতা তৈরি হয় বা রাষ্ট্রপতি শাসনের পরিস্থিতি আসে, তবে তার দায় যাতে কমিশনের ওপর না বর্তায়, সেই কৌশলই নেওয়া হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *