ভোটের বাংলা কি এবার শান্ত হবে? জ্ঞানেশ কুমারের কড়া বার্তার পর নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন

পশ্চিমবঙ্গে অবাধ ও হিংসামুক্ত নির্বাচন আয়োজনে নির্বাচন কমিশন যে কোনোভাবেই আপস করবে না, তা স্পষ্ট করে দিলেন দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। মঙ্গলবার কলকাতায় দু’দিনের রাজ্য সফর শেষে এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি সাফ জানান, ভোটের কাজে কারচুপি বা কোনো রাজনৈতিক নেতার নির্দেশে কাজ করলে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভোটারদের ভয় দেখানো বা প্রভাবিত করার অভিযোগ উঠলে কমিশন বিন্দুমাত্র রেয়াত করবে না।
রাজ্যে কত দফায় ভোট হবে সেই বিষয়ে এখনই চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি কমিশন। জ্ঞানেশ কুমার জানান, রাজনৈতিক দলগুলোর প্রস্তাব এবং রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনা করে দিল্লি ফিরে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, পশ্চিমবঙ্গের প্রতিটি বুথে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে ওয়েবকাস্টিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে এবং ভোটারদের সুবিধার্থে বুথ সংখ্যা বাড়িয়ে ৮০ হাজারেরও বেশি করা হচ্ছে। কোনো বুথেই ১২০০-র বেশি ভোটার রাখা হবে না।
নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কমিশন একগুচ্ছ নতুন পদক্ষেপের কথা জানিয়েছে। ইভিএম ও ভিভিপ্যাট তথ্যে গরমিল থাকলে কাউন্টিং এজেন্টের সামনেই তা পরীক্ষা করা হবে। এমনকি নির্বাচনের সাত দিনের মধ্যে কোনো প্রার্থী চাইলে ইভিএম পরীক্ষা করানোর সুযোগ পাবেন। ভোট চলাকালীন প্রতি দুই ঘণ্টা অন্তর কমিশনের অ্যাপ ও ওয়েবসাইটে ভোটের হার প্রকাশ করা হবে। বিএলও-দের মৃত্যু বা রাজনৈতিক মহলের ইমপিচমেন্টের তোড়জোড় নিয়ে কোনো মন্তব্য না করলেও, জ্ঞানেশ কুমারের এই কড়া অবস্থান রাজ্যের নির্বাচনী আমেজে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। সফর শেষে রাজ্যের মুখ্যসচিব ও ডিজির সঙ্গে বৈঠক সেরে বিকেলেই দিল্লি উড়ে যান কমিশনের ফুল বেঞ্চের সদস্যরা।