বাণিজ্যিক রান্নার গ্যাস সংকটে মাথায় হাত ব্যবসায়ীদের পরিস্থিতি সামাল দিতে বিশেষ কমিটি গড়ল কেন্দ্র

দেশের হোটেল, রেস্তরাঁ এবং মিষ্টান্ন শিল্পে ঘনিয়ে এল গভীর সংকট। চিকিৎসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছাড়া অন্য সমস্ত ক্ষেত্রে বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের জোগান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় পেট্রলিয়াম মন্ত্রক। কেন্দ্রের এই আকস্মিক পদক্ষেপে ব্যবসা বন্ধ হওয়ার আশঙ্কায় রীতিমতো উদ্বেগে লক্ষ লক্ষ ব্যবসায়ী। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে তিনটি রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থার এগজিকিউটিভ ডিরেক্টরদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে কবে থেকে পুনরায় সিলিন্ডার সরবরাহ স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে এখনও কোনও স্পষ্ট আশ্বাস মেলেনি।
রান্নার গ্যাসের নতুন বুকিং নিয়ম এবং বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের অভাব নিয়ে দেশজুড়ে হাহাকার তৈরি হয়েছে। ন্যাশনাল রেস্টুরেন্ট অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়ার পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরিকে চিঠি লিখে জানানো হয়েছে যে, এই শিল্পের সঙ্গে প্রায় ৮০ লক্ষ মানুষের রুটি-রুজি জড়িয়ে রয়েছে। জোগান বন্ধ থাকলে বছরে ৫ লক্ষ ৭০ হাজার কোটি টাকার এই বিশাল ব্যবসা কার্যত লাটে উঠবে। কলকাতার রেস্তরাঁ ব্যবসায়ীরাও এই কঠিন পরিস্থিতি নিয়ে চরম উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, ফেডারেশন অব সুইটস অ্যান্ড নমকিন ম্যানুফ্যাকচারার্স এবং বাংলার মিষ্টি ব্যবসায়ীদের সংগঠন ‘মিষ্টি উদ্যোগ’ এই সংকটের মোকাবিলায় সরব হয়েছে। মিষ্টি ব্যবসায়ীদের দাবি, এই শিল্পের সঙ্গে ডেয়ারি বা দুগ্ধ শিল্প সরাসরি যুক্ত। জোগান স্বাভাবিক না হলে দুধের বাজারেও ধস নামবে। বাংলার ব্যবসায়ীরা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হস্তক্ষেপ দাবি করে চিঠি দিচ্ছেন। বিকল্প হিসেবে ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইনডাকশন কুকার ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হলেও তার আকাশছোঁয়া দাম ছোট ব্যবসায়ীদের আয়ত্তের বাইরে। সব মিলিয়ে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখে দাঁড়িয়ে কয়েক লক্ষ ব্যবসায়ী ও কর্মী।