২১-এর ভোট পরবর্তী হিংসায় অভিযুক্ত পুলিশ কর্তাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলল নির্বাচন কমিশন

২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন পরবর্তী হিংসার ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে এবার নজিরবিহীন কড়া অবস্থান নিল নির্বাচন কমিশন। সে সময় কলকাতা ও রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে অশান্তি রুখতে তৎকালীন থানার ওসি এবং তাঁদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ভূমিকা ঠিক কী ছিল, তা খতিয়ে দেখতে বিশেষ রিপোর্ট তলব করা হয়েছে। রাজ্য পুলিশ সূত্রের খবর, সংশ্লিষ্ট পুলিশ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে রাজ্য সরকার এ পর্যন্ত কী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, কমিশন তা স্পষ্টভাবে জানতে চেয়েছে।
সামনেই ফের বিধানসভা নির্বাচন, আর তার আগেই কমিশনের এই তৎপরতায় পুলিশ মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মনে করা হচ্ছে, অভিযুক্ত পুলিশ আধিকারিকদের একটি তালিকা তৈরি করে তাঁদের নির্বাচনী প্রক্রিয়া থেকে পুরোপুরি দূরে সরিয়ে দেওয়া হতে পারে। এমনকি তাঁদের জনগুরুত্বহীন বা ভোটের সঙ্গে সম্পর্কহীন পদে বদলি করার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ভোটের পর কলকাতার নারকেলডাঙা, বেলেঘাটা, চিৎপুর, কাশীপুর, ঠাকুরপুকুর, যাদবপুর ও বড়তলা থানা এলাকায় ব্যাপক হিংসার অভিযোগ উঠেছিল। নারকেলডাঙায় এক যুবক খুনের মামলাটি বর্তমানে সিবিআই তদন্ত করছে, যেখানে তৎকালীন ওসি ও এক মহিলা এসআই-সহ তিনজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছিল। কলকাতা ছাড়াও পুরুলিয়া, উত্তর দিনাজপুর এবং জলপাইগুড়ির মতো জেলাগুলোতেও অশান্তির নজির রয়েছে। যদিও রাজ্য সরকারের গঠিত ‘সিট’ এই ঘটনার তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে, তবে অভিযুক্ত ওসিদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক স্তরে তেমন কোনো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেই জানা গেছে। এবার ভোটের মুখে সেই সব বিতর্কিত পুলিশ কর্তাদের ভাগ্য নির্ধারণ করতে চলেছে নির্বাচন কমিশন।