গৌড়বঙ্গের স্কুলে যুদ্ধের কোপ রান্নায় টান পড়ায় পড়ুয়াদের পাতে জুটল ড্রাই ফ্রুটস

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির আঁচ এবার সরাসরি এসে পড়ল গৌড়বঙ্গের স্কুলগুলির মিড ডে মিল প্রকল্পে। জ্বালানি গ্যাসের তীব্র সংকটে মালদহ ও দুই দিনাজপুরের বহু স্কুলেই হাহাকার শুরু হয়েছে। পরিস্থিতি এতটাই ঘোরালো যে, দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাট হাইস্কুলে রান্না বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পড়ুয়াদের মিড ডে মিলের পরিবর্তে শুকনো খাবার বা ড্রাই ফ্রুটস বিতরণ করতে বাধ্য হয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষ।
রান্নার গ্যাসের এই আকাল নিয়ে চরম উদ্বেগে রয়েছেন প্রাথমিক ও উচ্চ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকারা। বালুরঘাট হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক শ্রীজিত সাহা জানান, রান্না চলাকালীন গ্যাস ফুরিয়ে যাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েন তারা। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় পড়ুয়াদের ড্রাই ফ্রুটস দেওয়া হয়। যদিও প্রশাসনের সহায়তায় একটি সিলিন্ডার জোগাড় করা গেছে, তবে তা দিয়ে কতদিন চলবে, তা নিয়ে সংশয় কাটছে না। একই আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন বালুরঘাটের আশুতোষ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা পম্পা দাসও। তার মতে, হাতে থাকা গ্যাসে বড়জোড় আর তিনদিন রান্না সম্ভব। গ্যাস বুক করা হলেও তা কবে মিলবে, সে বিষয়ে কোনো নিশ্চয়তা নেই।
মালদহ জেলাতেও চিত্রটা তথৈবচ। ইংলিশবাজার ব্লকের শোভানগর উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রতিদিন প্রায় ১৩০০ পড়ুয়া মিড ডে মিল খায়। সেখানে মাসে অন্তত ৮টি সিলিন্ডার প্রয়োজন। প্রধান শিক্ষক হরিস্বামী দাস জানান, এই সংকট মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে পরিচালন সমিতির বৈঠক ডাকা হয়েছে। অন্যদিকে, জ্যোত আরাপুর টিপাজানি বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মানসী দত্ত জানান, সিলিন্ডার শেষ হওয়ার অন্তত ২৫ দিন আগে বুকিং না করতে পারলে সমস্যা আরও বাড়বে।
দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা ডিপিএসসি-র চেয়ারম্যান সন্তোষ হাঁসদা স্বীকার করেছেন যে, বহু স্কুল থেকেই গ্যাসের সংকটের কথা জানিয়ে ফোন আসছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শিক্ষা প্রশাসনের আধিকারিকরাও নড়েচড়ে বসেছেন। মালদহের জেলা শিক্ষা আধিকারিক সন্দীপ রায় জানিয়েছেন, গোটা পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে। উত্তর দিনাজপুরের কিছু স্কুলে এখনও পর্যাপ্ত মজুত থাকলেও আগামী দিনে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় সিঁদুরে মেঘ দেখছেন শিক্ষকরা। শহরাঞ্চলের স্কুলগুলি মূলত এলপিজি সিলিন্ডারের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এই যুদ্ধকালীন সংকট মিড ডে মিল পরিষেবা সচল রাখার ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।