খামেনেইয়ের প্রয়াণ ও যুদ্ধের আবহে কান্নায় ভাসছে পাণ্ডবেশ্বরের ইরানিপাড়া ফিকে হলো ঈদের আনন্দ

সুদূর পারস্য উপসাগরের তীরে আছড়ে পড়ছে একের পর এক মিসাইল। ধুলোয় মিশছে তেহরানের বহুতল। যুদ্ধের এই ভয়াবহতা আর রক্তক্ষয় আজ ঘুম কেড়েছে খনি অঞ্চল পাণ্ডবেশ্বরের ইরানিপাড়ার বাসিন্দাদের। পূর্বপুরুষের ভিটেয় যুদ্ধের দামামা আর তাঁদের পরম শ্রদ্ধেয় ধর্মগুরু আয়াতুল্লা খামেনেইয়ের প্রয়াণে শোকস্তব্ধ পশ্চিম বর্ধমানের এই জনপদ। এবারের রমজান আর আসন্ন ঈদে তাই খুশির বদলে বিষাদের কালো পতাকা উড়ছে পাণ্ডবেশ্বরে।
বহু দশক আগে ব্যবসা ও বাণিজ্যের টানে ইরান থেকে ভারতে এসেছিলেন বহু পরিবার। তাঁদেরই এক বড় অংশ থিতু হয়েছেন পাণ্ডবেশ্বরে। বর্তমানে চশমা ও রত্ন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত এই মানুষগুলো ভারতীয় সংস্কৃতির সঙ্গে মিলেমিশে গেলেও নাড়ির টান ভোলেননি। ইরানের বর্তমান পরিস্থিতিতে তাই প্রতি মুহূর্তে উদ্বেগে কাটছে তাঁদের দিন। বিশেষ করে ধর্মগুরু খামেনেইয়ের মৃত্যুতে এলাকায় ৪০ দিনের শোক পালন করা হচ্ছে।
এলাকার প্রবীণ বাসিন্দা গোলাম হোসেন আলি এবং আমজাদ আলিরা জানান, পশ্চিমবঙ্গ সরকার তাঁদের থাকা-খাওয়া ও নাগরিক সুবিধার সব ব্যবস্থা করলেও মনের শান্তি নেই। তাঁদের কথায়, আমেরিকার আধিপত্য মেনে না নেওয়ায় ইরানের ওপর এই অন্যায় আক্রমণ চলছে। আয়াতুল্লা খামেনেই সাধারণ মানুষের রক্ষায় শহিদ হয়েছেন বলে তাঁরা বিশ্বাস করেন।
একই সুর ইরানিপাড়ার মহিলাদের গলাতেও। তাঁরা জানান, বাংলায় হাতের কাজ ফেরি করে তাঁদের সংসার চললেও দেশের এই দুর্দিনে কারও মনে আনন্দ নেই। একদিকে প্রিয় ধর্মগুরুর বিয়োগ আর অন্যদিকে যুদ্ধের আতঙ্ক— সব মিলিয়ে পাণ্ডবেশ্বরের ইরানি পরিবারগুলোর কাছে এবারের ঈদ শুধুই কান্নার আর উৎকণ্ঠার।