রাস্তার গর্তে অ্যাম্বুলেন্সের ধাক্কায় ঘটল মিরাকল মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরে এলেন ব্রেন ডেড ঘোষিত মহিলা

চিকিৎসকরা আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন এবং তাকে ‘ব্রেন ডেড’ বলে ঘোষণা করেছিলেন। পরিবারের সদস্যরা যখন চোখের জল মুছে শেষকৃত্যের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, ঠিক তখনই ঘটল এক অবিশ্বাস্য ঘটনা। রাস্তার একটি গর্তে অ্যাম্বুলেন্সের তীব্র ঝাঁকুনিতে যেন প্রাণ ফিরে পেলেন উত্তরপ্রদেশের পিলিভিটের বাসিন্দা বিনীতা। অলৌকিক এই ঘটনার সাক্ষী থাকল যোগীরাজ্যের বেরিলি।
গত ২২ ফেব্রুয়ারি নিজের বাড়িতেই হঠাৎ জ্ঞান হারান বিনীতা। প্রথমে স্থানীয় সরকারি হাসপাতাল এবং পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে বেরিলির একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানে ভেন্টিলেটর সাপোর্টে রাখা হলেও দু’দিন পর চিকিৎসকরা তাকে ‘ব্রেন ডেড’ ঘোষণা করেন। কোনো আশা না দেখে ২৪ ফেব্রুয়ারি হাসপাতাল থেকে তাকে নিয়ে বাড়ির পথে রওনা দেন স্বামী কুলদীপ শুক্লা।
বেরিলি থেকে পিলিভিট ফেরার পথে হাফিজগঞ্জের কাছে অ্যাম্বুলেন্সটি আচমকা রাস্তার একটি বড় গর্তে পড়ে প্রচণ্ড ঝাঁকুনি খায়। আর সেই মুহূর্তেই ঘটে চমৎকার। কুলদীপ লক্ষ্য করেন, তার স্ত্রী হঠাৎ নড়ে উঠেছেন এবং স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিতে শুরু করেছেন। দ্রুত তাকে পিলিভিটের অন্য একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে প্রায় দুই সপ্তাহের নিবিড় চিকিৎসার পর সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে চলতি সপ্তাহে ঘরে ফিরেছেন বিনীতা।
চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা অবশ্য এই ঘটনাকে পুরোপুরি মিরাকল বলতে নারাজ। নিউরোসার্জন ডঃ রাকেশ সিংয়ের মতে, সাপের কামড় বা বিশেষ কোনো বিষক্রিয়ার ফলে অনেক সময় রোগীর শরীরে এমন অসাড় অবস্থা তৈরি হতে পারে যা দেখতে ‘ব্রেন ডেথ’-এর মতো মনে হয়। বিনীতার ক্ষেত্রেও অ্যান্টি ভেনম প্রয়োগ করার পর তিনি সাড়া দিতে শুরু করেন। চিকিৎসকদের ধারণা, গর্তে পড়ার বিষয়টি নিছক একটি কাকতালীয় ঘটনা হতে পারে। তবে কারণ যাই হোক, অকাল মৃত্যুর হাত থেকে প্রিয়জনকে ফিরে পেয়ে খুশির জোয়ার বইছে শুক্লা পরিবারে।