হরমুজ প্রণালীতে অচলাবস্থা: সারের আকাশছোঁয়া দাম ও সংকটের মুখে দেশের কৃষি খাত

হরমুজ প্রণালীতে অচলাবস্থা: সারের আকাশছোঁয়া দাম ও সংকটের মুখে দেশের কৃষি খাত

পশ্চিম এশিয়ায় চলমান যুদ্ধের জেরে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভারতে সার আমদানিতে বড়সড় বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ফ্যাক্ট (FACT)-এর সতর্কতা অনুযায়ী, এই সংকটের ফলে দেশের সার সরবরাহ শৃঙ্খলে প্রায় ২০-২৫ শতাংশ ঘাটতি দেখা দিতে পারে। ভারত তার প্রয়োজনীয় নাইট্রোজেন সারের ৬৩ শতাংশ এবং পটাশ আমদানির ৪২ শতাংশের জন্য সৌদি আরব ও কাতারসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর নির্ভরশীল, যেখান থেকে পণ্য পরিবহনের প্রধান পথ এই প্রণালী।

আন্তর্জাতিক বাজারে ইতিমত্যেই ইউরিয়া ও অ্যামোনিয়ার দাম হু হু করে বাড়ছে। চীন ফসফেট রপ্তানি নিষিদ্ধ করায় এবং রাশিয়ার সীমিত উৎপাদন ক্ষমতার কারণে বিশ্বজুড়ে সারের তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে। ভারত প্রতি মাসে প্রায় ২০ লক্ষ টন সার আমদানি করে এবং পটাশ ও ডিএপি-র জন্য বিদেশের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল। সরবরাহ ব্যাহত হলে ইউরিয়ার দাম ৩০-৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেতে পারে, যা সরাসরি সরকারের ভর্তুকির বোঝা বাড়াবে অথবা কৃষকদের চাষের খরচ বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।

বর্তমানে চাষের মরশুম না থাকলেও, এই পরিস্থিতি আগামী ছয় মাস অব্যাহত থাকলে জুলাইয়ের পরবর্তী ফসল বোনার সময়ে খাদ্য নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে। তবে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় সরকার এবং সার প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলো আগাম সতর্কতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। ঘাটতি মেটাতে সরকার ইতিমত্যেই বিভিন্ন উৎস থেকে ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট (DAP) ও ডাবল সুপার ফসফেট (DSP) মজুত করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে যাতে কৃষকরা বড় ধরনের বিপর্যয়ের সম্মুখীন না হন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *