লকডাউনের স্মৃতি ফেরাল জ্বালানি সংকট কাজ হারানোর আশঙ্কায় কোটি কোটি মানুষ

লকডাউনের স্মৃতি ফেরাল জ্বালানি সংকট কাজ হারানোর আশঙ্কায় কোটি কোটি মানুষ

ব্যবসায় মন্দা আর চারদিকে ছাঁটাইয়ের আতঙ্ক। করোনা আমলের সেই ভয়াবহ স্মৃতি যেন আবার ফিরে আসছে। তবে এবার কোনো ভাইরাস নয়, খোদ জ্বালানি সংকটই হয়ে দাঁড়িয়েছে অর্থনীতির প্রধান অন্তরায়। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় হরমুজ প্রণালী বন্ধ হওয়ার উপক্রম হতেই অপরিশোধিত তেল ও গ্যাসের জোগানে টান পড়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে ভারতের শিল্প থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের হেঁশেলে। সব কিছু সচল থাকলেও এক অদৃশ্য অচলবস্থার দিকে এগোচ্ছে দেশ।

পরিবহণ ব্যবস্থা কার্যত বিপর্যস্ত। তেলের অভাবে রাস্তায় অটো ও অ্যাপ-ক্যাব কমতে শুরু করেছে। যার সরাসরি কোপ পড়ছে গিগ ওয়ার্কার্সদের ওপর। সুইগি, জোমাটো বা উবরের মতো সংস্থার কয়েক লক্ষ কর্মীর আয় একধাক্কায় অনেকটা কমে গিয়েছে। মহানগরের অনেক নামী রেস্তরাঁ ইতিমধ্যেই ঝাঁপ বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে, অনেক জায়গায় খাবারের মেনু থেকে বাদ পড়ছে একাধিক পদ। পর্যটন শিল্পেও হাহাকার, পাহাড় থেকে সমুদ্র— সর্বত্রই হোটেল মালিকরা কর্মী ছাঁটাইয়ের প্রহর গুনছেন।

ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প থেকে শুরু করে ইস্পাত বা সিমেন্টের মতো ভারী শিল্প— সর্বত্রই এখন উৎপাদন বন্ধের মুখে। হাওড়ার জালান ইন্ডাস্ট্রিয়াল কমপ্লেক্স হোক বা দুর্গাপুর-আসাসোলের শিল্পাঞ্চল, ডিজেল ও গ্যাসের অভাবে থমকে যাচ্ছে চুল্লি। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প সংগঠন ‘ফসমি’-র রাজ্য সভাপতি বিশ্বনাথ ভট্টাচার্য এবং হোটেল ও রেস্তরাঁ সংগঠন ‘এইচআরএআই’-এর সভাপতি সুদেশ পোদ্দার উভয়েই চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে, এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে রাজ্যের কয়েক লক্ষ মানুষ কাজ হারাবেন।

এমনকি বাংলার ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি শিল্পও রেহাই পাচ্ছে না। গ্যাসের জোগান কমায় এবং ভরতুকি উঠে যাওয়ায় সংকটে পড়েছেন মিষ্টি ব্যবসায়ীরা। সব মিলিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে বারুদের গন্ধ না থাকলেও, নিঃশব্দ এক অর্থনৈতিক মন্দা গ্রাস করছে জনজীবনকে। ক্ষেপণাস্ত্রের লড়াইয়ে সরাসরি অংশ না নিয়েও এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে কোটি কোটি কর্মজীবী মানুষ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *