গ্যাসের হাহাকারে রান্নাঘরে মহাবিপদ ইন্ডাকশন ওভেন কিনতেও হুড়োহুড়ি পড়ে গেল দেশজুড়ে

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হতেই ভারতের রান্নাঘরে এলপিজি গ্যাসের তীব্র সঙ্কট দেখা দিয়েছে। দেশের প্রধান শহরগুলিতে রান্নার গ্যাসের জোগান নিয়ে উদ্বেগ বাড়তেই বিকল্প হিসেবে ইন্ডাকশন ওভেনের চাহিদা এখন আকাশছোঁয়া। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, কলকাতা, দিল্লি, মুম্বই এবং বেঙ্গালুরুর মতো মেগাসিটিগুলোতে দোকান থেকে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম—সর্বত্রই ইন্ডাকশন ওভেন স্টকআউট হয়ে যাচ্ছে।
গ্যাস সিলিন্ডারের চড়া দাম এবং বুকিংয়ে দেরির আশঙ্কায় সাধারণ মানুষ দলে দলে ইলেকট্রিক কুকটপ বা ইন্ডাকশন ওভেনের দিকে ঝুঁকছেন। ব্লিঙ্কিট বা সুইগি ইনস্টামার্টের মতো কুইক কমার্স অ্যাপগুলোতেও এখন তন্নতন্ন করে খুঁজে মিলছে না এই রান্নার সরঞ্জাম। ওভেনের পাশাপাশি পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ইন্ডাকশন উপযোগী বিশেষ বাসনের চাহিদাও।
বাজারের এই অস্থিরতার সুযোগ নিচ্ছে একদল অসাধু চক্র। দিল্লি ও নয়ডার মতো এলাকায় রান্নার গ্যাসের কালোবাজারি শুরু হয়েছে, যেখানে একটি সিলিন্ডারের দাম ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকায় গিয়ে ঠেকেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের পকেটে এবং রাস্তার ধারের ছোট খাবার দোকানগুলোতে। অনেক জায়গায় খাবারের দাম প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে গিয়েছে। বেঙ্গালুরু ও চেন্নাইয়ের বহু পিজি এবং রেস্তরাঁয় রান্নার গ্যাস বাঁচাতে মেনু কাটছাঁট করার খবরও সামনে আসছে।
যদিও সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে দেশে বড় কোনো গ্যাস সঙ্কট নেই এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ‘এসেনশিয়াল কমোডিটিস অ্যাক্ট’ প্রয়োগ করা হয়েছে, তবুও সাধারণ মানুষের আতঙ্ক কাটছে না। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে জ্বালানি সঙ্কট আরও ঘনীভূত হতে পারে। এই আশঙ্কায় দেশবাসী আগাম প্রস্তুতি হিসেবে ইন্ডাকশন ওভেন মজুত করতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন।