অভিনয়কে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিতে বলেছিলেন মা, ৬০ বছরের শিল্পী জীবনে অকপট ‘হংসরাজ’ অরিন্দম গঙ্গোপাধ্যায়

অভিনয়কে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিতে বলেছিলেন মা, ৬০ বছরের শিল্পী জীবনে অকপট ‘হংসরাজ’ অরিন্দম গঙ্গোপাধ্যায়

অভিনয় জীবনের দীর্ঘ ৬০ বছর পার করে আজও নস্টালজিক অভিনেতা অরিন্দম গঙ্গোপাধ্যায়। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের দীর্ঘ পথচলা, টলিউডের বর্তমান অবস্থা এবং ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার ডালি সাজিয়ে বসলেন তিনি। ‘হংসরাজ’ ছবির সেই সোনালী দিনগুলোর কথা স্মরণ করে তিনি জানান, কেয়াতলার সেই বাড়ি বা স্টার থিয়েটারের পাশ দিয়ে গেলে আজও স্মৃতির পাতায় ভেসে ওঠে শ্যুটিংয়ের দিনগুলি।

শৈশবের স্মৃতি হাতড়ে অরিন্দম বলেন, হংসরাজ ছবিতে প্রথমে তাঁর গান গাওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা হয়ে ওঠেনি। সেই মনখারাপের দিনে মা অনুভা গঙ্গোপাধ্যায় তাঁকে পরামর্শ দিয়েছিলেন অভিনয়কে চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করতে। সেই চ্যালেঞ্জই তাঁকে এনে দিয়েছিল শ্রেষ্ঠ শিশু অভিনেতার সরকারি পুরস্কার। আকাশবাণীতে নিজের নাম ঘোষণার সেই মুহূর্ত আজও তাঁর কাছে অমলিন। তবে আক্ষেপের সুরে তিনি জানান, ‘হংসরাজ’-এর আকাশছোঁয়া সাফল্যে তাঁর অন্যান্য অনেক কাজ যেমন ‘লালকমল নীলকমল’ বা ‘মাদার’-এর মতো ছবিগুলি প্রচারের আলো থেকে আড়ালে রয়ে গিয়েছে।

বাংলা সিনেমার বর্তমান সংকট ও দ্রুত হল থেকে ছবি নেমে যাওয়া প্রসঙ্গে অরিন্দম সরাসরি আঙুল তুলেছেন মূল্যবোধের অবক্ষয়ের দিকে। তাঁর মতে, সামাজিক মানসিকতার পরিবর্তন না হলে এই পরিস্থিতির উত্তরণ সম্ভব নয়। দীর্ঘ সাত বছর আর্টিস্ট ফোরামের দায়িত্ব সামলানো এই প্রবীণ শিল্পী মনে করেন, শিল্পীদের পাশে দাঁড়ানোর লড়াইয়ে তিনি অনেকটা একাই ছিলেন।

টেলিভিশন দুনিয়ার বর্তমান হাল নিয়েও যথেষ্ট উদ্বিগ্ন তিনি। ১০ বছর ধরে চলা ‘বামাক্ষ্যাপা’ ধারাবাহিকের প্রধান অভিনেতা অরিন্দম মনে করেন, কর্পোরেট সংস্কৃতির দাপটে পরিচালকরা আজ কেবল ‘ফ্লোর ম্যানেজার’-এ পরিণত হয়েছেন। সৃজনশীলতার চেয়ে চ্যানেলের নির্দেশই এখন শেষ কথা। আত্মসম্মান বিসর্জন দিয়ে এবং পারিশ্রমিক কমিয়ে কাজ করার এই বর্তমান ট্রেন্ডের সঙ্গে আপস করতে রাজি নন বলেই তিনি নিজেকে কিছুটা সরিয়ে নিয়েছেন অভিনয় ও পরিচালনা থেকে। শিল্পীর সত্তা আর পেশাদারিত্বের লড়াইয়ে আজও তিনি নিজের আদর্শে অবিচল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *