১৯৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধের জ্বালানি সংকট ও তৎকালীন বাম সরকারের পদক্ষেপ

২০২৬ সালে ইরান যুদ্ধের আবহে পশ্চিমবঙ্গে তৈরি হওয়া জ্বালানি সংকট ১৯৯১ সালের উপসাগরীয় যুদ্ধের স্মৃতি উসকে দিয়েছে। সেই সময় ইরাক কুয়েতের কয়েকশ তেলকূপে অগ্নিসংযোগ করায় বিশ্বজুড়ে তীব্র হাহাকার তৈরি হয়েছিল। সাদ্দাম হোসেনের ‘স্কর্চড আর্থ’ নীতির ফলে সৃষ্ট সেই বিপর্যয়ে বায়ুমণ্ডলে বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে এবং হিমালয় থেকে চীন পর্যন্ত অ্যাসিড বৃষ্টির আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল। ভারতের জন্য সেই সময়টি ছিল অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত ঘটনাবহুল।
তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকার এই সংকট মোকাবিলায় বেশ কিছু জনমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিল। বাম নেতা রবীন দেবের মতে, সেই সময় রান্নার গ্যাসের চেয়ে কেরোসিনের ব্যবহার ছিল ব্যাপক। সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিতে রাজ্য সরকার নিজস্ব ‘সেস’ বা শুল্ক মকুব করেছিল। লিটার প্রতি ডিজেলের দাম ৫ টাকা ৩৫ পয়সা এবং পেট্রোলের দাম ১২ টাকা ৬০ পয়সা থাকলেও, কেরোসিনে ভর্তুকি দিয়ে দরিদ্র শ্রেণির মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখা হয়েছিল।
বর্তমান পরিস্থিতির তুলনায় ১৯৯১ সালের সংকট সামাল দেওয়া ছিল পরিকল্পিত। তৎকালীন সরকার একদিকে যেমন কেন্দ্রীয় নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও ধর্মঘট সংগঠিত করেছিল, অন্যদিকে রাজ্যের সীমিত ক্ষমতার মধ্যে শুল্ক ছাড় দিয়ে জনগণকে সরাসরি স্বস্তি দিয়েছিল। বর্তমানে জ্বালানির অনিয়মিত মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তুলেছে। অতীতের সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বর্তমান সংকটে রাজ্য সরকারের সেস কমানোর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে ফের আলোচনা শুরু হয়েছে।