গলায় মাছের কাঁটা বিঁধলে বিপদ এড়াতে যা করবেন এবং যা ভুলেও করবেন না

মাছ ছাড়া বাঙালির ভোজ যেন আসাম্পূর্ণ। রুই, কাতলা থেকে ইলিশ—মাছের স্বাদ নিতে গিয়ে অসাবধানতাবশত গলায় কাঁটা ফুটে যাওয়া অত্যন্ত সাধারণ একটি সমস্যা। ছোটদের ক্ষেত্রে টনসিল বড় থাকায় এই ঝুঁকি বেশি থাকে, তবে বড়রাও অনেক সময় জিভের পেছনের অংশ, তালু বা মাড়িতে কাঁটা বিঁধে অস্বস্তিতে পড়েন। এমন পরিস্থিতিতে আতঙ্কিত না হয়ে সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
গলায় কাঁটা বিঁধলে অনেকেই তড়িঘড়ি শুকনো ভাত, রুটি বা কলা খাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে চিকিৎসকদের মতে, সবচেয়ে নিরাপদ এবং কার্যকর উপায় হলো ধীরে ধীরে জল পান করা। বারবার জল খেলে বা ঢোক গিললে অনেক সময় আটকে থাকা কাঁটা নিজে থেকেই নেমে যায়। গলায় বেশি অস্বস্তি বা ব্যথা হলে সাময়িকভাবে প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ সেবন করা যেতে পারে।
অনেকেই গলায় আঙুল ঢুকিয়ে বা বারবার খোঁচাখুঁচি করে কাঁটা বের করার চেষ্টা করেন, যা অত্যন্ত বিপজ্জনক। এতে গলার ভেতরে ক্ষত তৈরি হতে পারে বা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। জোর করে বমি করার চেষ্টাও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কাঁটা গলায় বিঁধে না থেকে কোনো খাঁজে আটকে থাকে, যা জলের তোড়ে নেমে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
যদি দীর্ঘক্ষণ জল পানের পরও কাঁটা না নামে, তীব্র ব্যথা অনুভূত হয় কিংবা খাবার গিলতে সমস্যা হয়, তবে দেরি না করে দ্রুত একজন নাক-কান-গলা (ইএনটি) বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। আধুনিক যন্ত্রের সাহায্যে চিকিৎসকরা সহজেই কাঁটার অবস্থান শনাক্ত করে তা বের করে দিতে পারেন। ঘরোয়া টোটকায় কাজ না হলে ঝুঁকি না নিয়ে বিশেষজ্ঞের দ্বারস্থ হওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।