ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে সরাতে তৃণমূলের মেগা পরিকল্পনা দিল্লিতে নজিরবিহীন ঐক্য বিরোধীদের

ভারতের সংসদীয় ইতিহাসে এক নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিতে চলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। দেশের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ইম্পিচমেন্ট বা অভিশংসন প্রস্তাব আনতে একজোট হয়েছে বিজেপি বিরোধী দলগুলি। লোকসভা ও রাজ্যসভার দেড়শোর বেশি সাংসদ ইতিমধ্যেই এই প্রস্তাবে স্বাক্ষর করেছেন যা প্রয়োজনীয় সংখ্যার চেয়েও অনেক বেশি। তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃত্বে শুরু হওয়া এই সই সংগ্রহ অভিযানে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে সমাজবাদী পার্টিসহ ইন্ডিয়া জোটের একাধিক শরিক দল।
তৃণমূল সূত্রের খবর অনুযায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে মূলত তিনটি গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে। বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়ায় জালিয়াতি, পদের অপব্যবহার এবং জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগে তাঁকে পদ থেকে সরানোর দাবি তুলেছেন বিরোধীরা। এই প্রক্রিয়ায় অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছেন শতাব্দী রায় এবং নাদিমূল হক। লোকসভার ১৩০ জন এবং রাজ্যসভার ৬৩ জন সাংসদ ইতিমধ্যে এই নথিতে সই করেছেন। প্রবীণ তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায় জানিয়েছেন দ্রুতই এই প্রস্তাব জমা দেওয়া হবে।
বিরোধী জোটের এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। তিনি পাল্টা তোপ দেগে বলেন যে ভারতের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর ভরসা না থাকলে তৃণমূলের উচিত পাকিস্তান বা বাংলাদেশে গিয়ে নির্বাচনে লড়াই করা। সুপ্রিম কোর্ট ও নির্বাচন কমিশনের মতো সংস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলায় তিনি সরব হয়েছেন।
উল্লেখ্য যে প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে অপসারণের প্রক্রিয়া অত্যন্ত জটিল এবং তা সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির সমতুল্য। লোকসভার ১০০ জন অথবা রাজ্যসভার ৫০ জন সদস্যের সমর্থন থাকলে তবেই এই প্রস্তাব আনা সম্ভব। যদিও সংসদের উভয় কক্ষে এনডিএ জোট সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়ায় এই প্রস্তাব পাস হওয়া কঠিন কিন্তু রাজনৈতিক মহলের মতে বঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগে দিল্লিতে বিরোধীদের এই শক্তি প্রদর্শন বিজেপিকে চাপে রাখার একটি কৌশল।