হিমালয়ের কোলে শান্তিতে ডুব দিতে চান তাহলে ঘুরে আসুন পূর্ব সিকিমের এই রূপকথার গ্রাম মারতাম

হিমালয়ের কোলে শান্তিতে ডুব দিতে চান তাহলে ঘুরে আসুন পূর্ব সিকিমের এই রূপকথার গ্রাম মারতাম

পাহাড়ের খাঁজে সিঁড়ি কাটা সবুজ ধানক্ষেত, এলাচ বাগান আর পাইন বনের স্নিগ্ধতা নিয়ে সেজে আছে পূর্ব সিকিমের এক অফবিট পর্যটন কেন্দ্র মারতাম। গ্যাংটক থেকে মাত্র ৩০ কিলোমিটার দূরে, প্রায় ৪,০০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত এই গ্রামটি পর্যটকদের কাছে এখনও এক লুকানো রত্ন। কাঞ্চনজঙ্ঘার মোহময় রূপ আর সিকিমিজ গ্রামীণ জীবনের স্বাদ নিতে ভিড়ভাট্টা এড়িয়ে যারা নির্জনতা খুঁজছেন, তাদের জন্য মারতাম এক আদর্শ গন্তব্য।

পূর্ব সিকিমের পাকিয়ং মহকুমার অন্তর্গত এই গ্রামে মূলত ভুটিয়া এবং নেপালী সম্প্রদায়ের মানুষের বাস। এখানকার বাসিন্দাদের অমায়িক আতিথেয়তা এবং ঐতিহ্যবাহী ঘরবাড়ি পর্যটকদের মুগ্ধ করে। বড় হোটেলের বদলে এখানে স্থানীয়দের বাড়িতে বা ইকো-ফ্রেন্ডলি হোম-স্টেতে থাকার ব্যবস্থাই বেশি জনপ্রিয়, যা পাহাড়ের সংস্কৃতিকে খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ করে দেয়।

মারতামের মূল আকর্ষণ ও বৈশিষ্ট্যসমূহ:

প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও কাঞ্চনজঙ্ঘা: পরিষ্কার আকাশ থাকলে এখান থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার তুষারশুভ্র শৃঙ্গ স্পষ্ট দেখা যায়। এছাড়া পাইন ও ধূপ গাছের জঙ্গল এবং ধাপ চাষের আদিম সৌন্দর্য গ্রামটিকে অনন্য করে তুলেছে।

সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য: এখানে ভুটিয়া, লেপচা ও নেপালি সংস্কৃতির এক অপূর্ব মেলবন্ধন দেখা যায়। গ্রামের অন্যতম আকর্ষণ হলো ঐতিহাসিক ‘ইউমা সাময়ো মাংঘিম’ মন্দির, যা স্থানীয় ঐতিহ্যের ধারক।

অ্যাক্টিভিটি: যারা প্রকৃতি ভালোবাসেন তারা এখানে ট্রেকিং, পাখি দেখা বা নির্জন অরণ্যে সময় কাটাতে পারেন।

যাতায়াত ও সেরা সময়:

শিলিগুড়ি বা এনজেপি থেকে মারতামের দূরত্ব প্রায় ১০০-১১০ কিলোমিটার। গাড়ি ভাড়া করে ৩-৪ ঘণ্টায় এখানে পৌঁছানো যায়। গ্যাংটক যাওয়ার পথেই এই গ্রামটি পড়ে। অক্টোবর থেকে মার্চ মাস এখানে ঘোরার সেরা সময় হলেও সারা বছরই আবহাওয়া বেশ মনোরম থাকে।

প্রকৃতির কোলে নিরিবিলি কয়েকটা দিন কাটাতে চাইলে পূর্ব সিকিমের এই শান্ত জনপদ আপনার পরবর্তী ভ্রমণের তালিকায় থাকতেই পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *