যুদ্ধের মেঘেও ফুরোবে না তেল ভারতের তিনটি গোপন গুহায় মজুত আছে বিপুল জ্বালানি

বিশ্বজুড়ে ঘনীভূত হওয়া যুদ্ধ পরিস্থিতির মাঝেও ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় স্বস্তির খবর সামনে এসেছে। ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় যখন বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, তখন ভারতের নিজস্ব কৌশলগত মজুত ভাণ্ডার দেশকে বড় বিপদ থেকে রক্ষা করতে সক্ষম। বর্তমানে ভারত তার প্রয়োজনীয় অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৯০ শতাংশ আমদানি করলেও, আপদকালীন পরিস্থিতির জন্য তিনটি গোপন পাহাড়ি গুহায় বিশাল পরিমাণ তেল মজুত করে রাখা হয়েছে।
অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনম, কর্ণাটকের ম্যাঙ্গালুরু এবং তামিলনাড়ুর পাদুর—এই তিনটি স্থানে মাটির গভীরে তৈরি করা হয়েছে বিশেষ তেলের খনি বা স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ। ইন্ডিয়ান স্ট্র্যাটেজিক পেট্রোলিয়াম রিজার্ভ লিমিটেডের তৈরি এই গুহাগুলিতে প্রায় ৫.৩৩ মিলিয়ন মেট্রিক টন অপরিশোধিত তেল মজুত রাখার ক্ষমতা রয়েছে, যা দেশের প্রায় ১০ দিনের জরুরি প্রয়োজন মেটাতে পারে। ভূগর্ভস্থ হওয়ায় এই ভাণ্ডারগুলি ড্রোন হামলা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত।
পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কৌশলগত এই মজুত ছাড়াও ভারতের কাছে বর্তমানে প্রায় ২৫ দিনের অপরিশোধিত তেল এবং আরও ২৫ দিনের পেট্রোল-ডিজেলের স্টক রয়েছে। এছাড়া রান্নার গ্যাস বা এলপিজি প্রায় ২৫-৩০ দিন এবং শিল্পে ব্যবহৃত এলএনজি ১০ দিন পর্যন্ত সরবরাহ করা সম্ভব।
সরকার জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীর ওপর নির্ভরতা কমাতে বর্তমানে ইউরোপ, ল্যাটিন আমেরিকা ও পশ্চিম আফ্রিকার ৪০টি দেশ থেকে তেল আমদানি করা হচ্ছে। ফলে আগে যেখানে ৫৫ শতাংশ তেল হরমুজ প্রণালী দিয়ে আসত, এখন তা কমে ৭০ শতাংশ তেল বিকল্প রুট দিয়ে দেশে পৌঁছাচ্ছে। কূটনৈতিক তৎপরতার ফলে ইরানও ভারতের পতাকাবাহী ট্যাঙ্কার চলাচলে সবুজ সংকেত দিয়েছে, যা ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তাকে আরও মজবুত করেছে।