জিয়াগঞ্জের কীর্তন থেকে পদ্মশ্রী ও অরিজিৎ সিংয়ের প্লেব্যাক ত্যাগের নেপথ্য কাহিনী

জিয়াগঞ্জের কীর্তন থেকে পদ্মশ্রী ও অরিজিৎ সিংয়ের প্লেব্যাক ত্যাগের নেপথ্য কাহিনী

ভারতের সংগীত জগতের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র অরিজিৎ সিংয়ের জয়যাত্রা শুরু হয়েছিল পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার এক সাধারণ মফস্বল জিয়াগঞ্জ থেকে। আজ তিনি কেবল জাতীয় স্তরে জনপ্রিয়ই নন, বরং দুইবার জাতীয় পুরস্কার এবং ২০২৫ সালে দেশের অন্যতম সম্মানজনক ‘পদ্মশ্রী’ খেতাবে ভূষিত এক কিংবদন্তি। তবে সম্প্রতি ২০২৬ সালের ২৭ জানুয়ারি সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের এক সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে অনুরাগীমহলে ব্যাপক শোরগোল ফেলে দিয়েছেন এই গায়ক। অরিজিৎ স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে তিনি সিনেমার প্লেব্যাক থেকে অবসর নিচ্ছেন, তবে সংগীত জগত থেকে নয়। অর্থাৎ ভক্তরা তাঁর লাইভ কনসার্ট, আন্তর্জাতিক ট্যুর এবং ব্যক্তিগত স্বতন্ত্র সংগীতের স্বাদ পেলেও সিনেমার পর্দায় তাঁর কণ্ঠ আর নতুন করে পাওয়া যাবে না।

পেশাদার এই দীর্ঘ সফরে বেঙ্গল টু বোম্বে পৌঁছানোর পথ অরিজিতের জন্য মোটেও সহজ ছিল না। বাবা কক্কর সিং ও মা অদিতি সিংয়ের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে বড় হওয়া অরিজিতের হাতেখড়ি হয়েছিল মায়ের হাত ধরে গুরুদ্বারে কীর্তন গাওয়ার মাধ্যমে। শাস্ত্রীয় সংগীতে তালিম নেওয়া অরিজিৎ ১৮ বছর বয়সে ২০০৫ সালে ‘ফেম গুরুকুল’ রিয়্যালিটি শো-তে অংশ নিয়ে জাতীয় স্তরে প্রথম নজরে আসেন। সেই প্রতিযোগিতায় জয়ী না হতে পারলেও বিচারকরা তাঁর প্রতিভার আঁচ পেয়েছিলেন। বাংলা সিনেমা ‘বোঝেনা সে বোঝেনা’র মাধ্যমে প্লেব্যাক যাত্রা শুরু হলেও ২০১১ সালে ‘মার্ডার ২’ ছবির ‘ফির মহাব্বত’ গানটি তাঁকে বলিউডে পরিচিতি দেয়। তবে ২০১৩ সালে ‘আশিকি ২’ ছবির ‘তুম হি হো’ গানটি রাতারাতি তাঁকে সাফল্যের শিখরে পৌঁছে দেয়।

এরপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি অরিজিৎকে। শাহরুখ খান থেকে সালমান খান, বলিউডের সব বড় তারকার কণ্ঠ হয়ে উঠেছেন তিনি। ২০১৮ সালে ‘পদ্মাবত’ ছবির ‘বিন্তে দিল’ এবং ২০২২ সালে ‘ব্রহ্মাস্ত্র’ ছবির ‘কেশরিয়া’ গানের জন্য তিনি দুবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জয় করেন। প্লেব্যাক থেকে তাঁর সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা ভক্তদের জন্য কষ্টের হলেও, মঞ্চে এবং স্বাধীন সংগীতে তাঁর সুরের মূর্ছনা চলতেই থাকবে— এই আশাতেই বুক বাঁধছেন তাঁর অগণিত অনুরাগী।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *