সংকটকালীন রান্নার গ্যাসের জোগান নিয়ে কেন্দ্রের আশ্বাস, দেশজুড়ে উদ্বেগ

পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হওয়ায় ভারতে রান্নার গ্যাসের (এলপিজি) জোগানে টান পড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জরুরি বৈঠক করেছেন এবং গৃহস্থালিতে গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে অগ্রাধিকার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাঞ্জাব, দিল্লি এবং উত্তরপ্রদেশসহ একাধিক রাজ্যে তীব্র হাহাকার দেখা দিলেও পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক জানিয়েছে, পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অহেতুক আতঙ্কিত হয়ে ‘প্যানিক বুকিং’ না করার জন্য দেশবাসীকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সরকার জানিয়েছে, দেশে এলপিজি উৎপাদন ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং বিকল্প রুটে আমদানির চেষ্টা চলছে। বর্তমানে গ্যাস বুক করার দুই থেকে আড়াই দিনের মধ্যেই সিলিন্ডার পাওয়া যাবে। তবে অপচয় ও কালোবাজারি রুখতে দুটি বুকিংয়ের মধ্যবর্তী সময়সীমা ২১ দিন থেকে বাড়িয়ে ২৫ দিন করা হয়েছে। বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের অভাবে বিভিন্ন রাজ্যে হোটেল-রেস্তরাঁ ও কেটারিং পরিষেবা ব্যাহত হলেও হাসপাতাল এবং জরুরি পরিষেবাগুলোতে জোগান স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা চলছে।
পশ্চিমবঙ্গে রান্নার গ্যাসের বুকিং প্রায় ২০০ শতাংশ বাড়লেও কলকাতার পরিস্থিতি অন্য বড় শহরগুলোর তুলনায় স্থিতিশীল রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তেল সংস্থাগুলোর সঙ্গে বৈঠক করে বাণিজ্যিক গ্যাসের জোগান বজায় রাখার আবেদন জানিয়েছেন। রাজ্যে ১৪.২ কেজির সিলিন্ডারের দাম বেড়ে ৯৩৯ টাকা এবং বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম ১৯৯০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। সরকার একটি বিশেষ কমিটি গঠন করে রেস্তরাঁ ও হোটেলগুলোর বর্তমান অবস্থা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে।