হাঁটুর অসহ্য যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে হাঁটু প্রতিস্থাপন কি সেরা সমাধান জানুন বিস্তারিত

হাঁটুর অসহ্য যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে হাঁটু প্রতিস্থাপন কি সেরা সমাধান জানুন বিস্তারিত

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাড়ের ক্ষয় বা নানাবিধ সমস্যায় হাঁটুতে অসহ্য যন্ত্রণা এখন ঘরে ঘরে অতি পরিচিত সমস্যা। যখন ওষুধ, ফিজিওথেরাপি বা ইনজেকশনেও আর কাজ হয় না, তখন চিকিৎসকরা ‘টোটাল নি রিপ্লেসমেন্ট’ বা হাঁটু প্রতিস্থাপনের পরামর্শ দেন। তবে এই অস্ত্রোপচার নিয়ে অনেকের মনেই প্রশ্ন থাকে এটি কতটা সফল বা স্বাভাবিক জীবন ফিরিয়ে দিতে কতটা সক্ষম।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, হাঁটু প্রতিস্থাপন অস্ত্রোপচারের সাফল্যের হার অত্যন্ত বেশি। প্রায় ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ ক্ষেত্রে দেখা গেছে, অস্ত্রোপচারের পর রোগীরা দীর্ঘস্থায়ী যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পান এবং তাঁদের সচলতা বহুগুণ বেড়ে যায়। আধুনিক প্রযুক্তিতে তৈরি কৃত্রিম হাঁটু বা ইমপ্ল্যান্টগুলো সাধারণত ১৫ থেকে ২৫ বছর পর্যন্ত অনায়াসেই সচল থাকে।

অস্টিওআর্থ্রাইটিস বা হাঁটু ক্ষয়ে যাওয়ার ফলে হাড়ের ঘর্ষণজনিত যে তীব্র ব্যথা হয়, এই পদ্ধতিতে তা পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব। অস্ত্রোপচারের কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই অধিকাংশ রোগী নিজে থেকে হাঁটতে, সিঁড়ি দিয়ে উঠতে এবং স্বাভাবিক দৈনন্দিন কাজ করতে সক্ষম হন। বর্তমানে ‘রোবোটিক অ্যাসিস্টেড সার্জারি’ বা উন্নত মানের ইমপ্ল্যান্ট ব্যবহারের ফলে রক্তপাত যেমন কম হয়, তেমনি সুস্থ হওয়ার গতিও অনেক বেড়ে গেছে।

তবে এই অস্ত্রোপচারের সাফল্য অনেকটা নির্ভর করে পরবর্তী সতর্কতার ওপর। অপারেশনের পর নিয়মিত ফিজিওথেরাপি করা বাধ্যতামূলক, যা হাঁটুর পেশিকে শক্ত করতে সাহায্য করে। এছাড়া শরীরের অতিরিক্ত ওজন কৃত্রিম হাঁটুর ওপর চাপ বাড়ায়, তাই ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি। সাধারণত অপারেশনের পর মেঝেতে বসা বা খুব নিচু জায়গায় বসা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

যদি হাঁটুতে এমন তীব্র ব্যথা থাকে যা রাতে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়, হাঁটু বাঁকা হয়ে যায় বা অল্প হাঁটাচলাতেও সমস্যা হয়, তবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। চিকিৎসকদের মতে, হাঁটু প্রতিস্থাপন কোনো ভয়ের বিষয় নয়। বরং সঠিক সময়ে অভিজ্ঞ চিকিৎসকের মাধ্যমে এই অস্ত্রোপচার করালে একজন মানুষ পুনরায় যন্ত্রণাহীন ও সক্রিয় জীবন ফিরে পেতে পারেন। ভয় পেয়ে পিছিয়ে না থেকে সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *