রান্নার গ্যাসের তীব্র সংকটে কাঁপছে কর্পোরেট জগৎ থেকে ফুড ডেলিভারি পরিষেবা

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের আবহে দেশে এলপিজি সিলিন্ডারের জোগান নিয়ে তৈরি হয়েছে বড়সড় অস্থিরতা। রান্নার গ্যাসের এই সংকটের প্রভাব এবার সরাসরি আছড়ে পড়ল দেশের কর্পোরেট সেক্টরে। পরিস্থিতি এতটাই বেগতিক যে, চেন্নাইয়ে এইচসিএল টেকনোলজিসের মতো প্রথম সারির আইটি সংস্থা তাদের কর্মীদের বাড়ি থেকে কাজ বা ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’-এর নির্দেশ দিতে বাধ্য হয়েছে। জানা গিয়েছে, রান্নার গ্যাসের অভাবে অফিসের ক্যাফেটেরিয়া পরিষেবা ব্যাহত হওয়ায় ১২ ও ১৩ মার্চ কর্মীদের জন্য এই বিকল্প ব্যবস্থা করেছে সংস্থাটি।
গ্যাসের এই আকাল শুধু অফিস নয়, চরম বিপাকে ফেলেছে হোটেল ও রেস্তোরাঁ শিল্পকেও। রান্নার গ্যাসের অভাবে ক্যাফেটেরিয়া ও ক্লাউড কিচেনগুলো ঠিকমতো চলতে পারছে না, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে সুইগি বা জোম্যাটোর মতো ফুড ডেলিভারি সংস্থাগুলোর ওপর। সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, গত কয়েক দিনে অনলাইন খাবারের অর্ডার প্রায় ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ কমে গিয়েছে। এর ফলে চরম আর্থিক অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন কয়েক লক্ষ গিগ কর্মী।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় ‘দ্য গিগ অ্যান্ড প্ল্যাটফর্ম সার্ভিস ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন’ কেন্দ্রীয় শ্রমমন্ত্রী মনসুখ মাণ্ডব্যর কাছে জরুরি হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের জন্য অবিলম্বে ১০,০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তার আর্জি জানিয়েছে সংগঠনটি। তাদের মতে, এই সংকটের ফলে প্রায় এক কোটি শ্রমিক বেকারত্ব ও ঋণের জালে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় রয়েছেন।
যদিও সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করে কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী সংসদে জানিয়েছেন, দেশে চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত রয়েছে এবং ভয়ের কোনো কারণ নেই। সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, বুকিং করার আড়াই দিনের মধ্যেই গ্রাহকরা সিলিন্ডার হাতে পাবেন। তবে বাস্তবের সরবরাহ সংকট ও সাধারণ মানুষের উদ্বেগ যে এখনই কাটছে না, এইচসিএল-এর মতো সংস্থার ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’-এর সিদ্ধান্ত তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।