গ্যাসের আকাশছোঁয়া দাম থেকে মুক্তি পেতে রান্নার অভ্যাসে আনুন এই সামান্য বদল

গ্যাসের আকাশছোঁয়া দাম থেকে মুক্তি পেতে রান্নার অভ্যাসে আনুন এই সামান্য বদল

বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির জেরে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আকাশচুম্বী। ইজরায়েল ও ইরানের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান সংঘাতের সরাসরি প্রভাব পড়েছে ভারতের মধ্যবিত্তের রান্নাঘরেও। রান্নার গ্যাসের (LPG) ক্রমাগত মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের পকেটে টান পড়ছে। তবে রান্নার ধরনে সামান্য কিছু পরিবর্তন আনলে খুব সহজেই গ্যাস সিলিন্ডারের খরচ ২০ শতাংশ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনা সম্ভব।

গ্যাস সাশ্রয় করার প্রথম ধাপ হলো রান্নার সমস্ত উপকরণ আগে থেকে গুছিয়ে রাখা। অনেক সময় উনুন জ্বালিয়ে সবজি কাটা বা মশলা খোঁজার ফলে প্রচুর গ্যাস অপচয় হয়। তাই উনুন জ্বালানোর আগেই প্রস্তুতি সেরে ফেলুন যেন কড়াই গরম হওয়ার সাথে সাথেই রান্না শুরু করা যায়। রান্না করার সময় সর্বদা পাত্র ঢাকা দিয়ে রাখার অভ্যাস করুন। এতে বাষ্প ভেতরে আটকে থাকে এবং খাবার দ্রুত সেদ্ধ হয়, যা জ্বালানি বাঁচানোর পাশাপাশি খাবারের পুষ্টিগুণও বজায় রাখে।

ডাল, মাংস বা সবজি রান্নার ক্ষেত্রে সাধারণ পাত্রের বদলে প্রেসার কুকার ব্যবহার করা বুদ্ধিমানের কাজ। এটি সাধারণ কড়াইয়ের চেয়ে অন্তত ৭০ শতাংশ দ্রুত রান্না করতে সক্ষম। এছাড়া চাল বা ডাল রান্নার অন্তত আধা ঘণ্টা আগে ভিজিয়ে রাখলে তা দ্রুত সেদ্ধ হয় এবং জ্বালানি কম লাগে। পাত্রের তলার আয়তন অনুযায়ী বার্নার নির্বাচন করাও জরুরি। ছোট পাত্রের জন্য বড় বার্নার ব্যবহার করলে তাপ বাইরে বেরিয়ে অপচয় হয়। সব সময় মাঝারি আঁচে রান্না করলে গ্যাস সবচেয়ে কম খরচ হয়।

ফ্রিজে রাখা খাবার বা দুধ সরাসরি ওভেনে গরম করতে দেবেন না। কনকনে ঠান্ডা খাবার স্বাভাবিক তাপমাত্রায় আসতে এবং গরম হতে দ্বিগুণ জ্বালানি খরচ করে। তাই রান্নার অন্তত এক ঘণ্টা আগে ফ্রিজ থেকে খাবার বের করে রাখা নিশ্চিত করুন। এই ছোটখাটো কৌশলগুলো মেনে চললে বর্তমান অগ্নিমূল্যের বাজারেও রান্নার গ্যাসের খরচ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *