মার্কিন-ইজ়রায়েল যৌথ হামলা মোকাবিলায় ইরানের অদম্য প্রতিরক্ষা, নেপথ্যে জাফারির ‘মোজাইক’ কৌশল

মার্কিন-ইজ়রায়েল যৌথ হামলা মোকাবিলায় ইরানের অদম্য প্রতিরক্ষা, নেপথ্যে জাফারির ‘মোজাইক’ কৌশল

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-তে আমেরিকা ও ইজ়রায়েলের যৌথ বাহিনী ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইসহ একাধিক শীর্ষ সামরিক কর্তাকে হত্যার দাবি করলেও, তেহরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখনও অটুট। দীর্ঘ ১৪ দিনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধেও ইরানকে ধরাশায়ী করতে ব্যর্থ হয়েছে যৌথ বাহিনী। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই অভাবনীয় প্রতিরোধের মূল কারিগর মেজর জেনারেল মহম্মদ আলি জাফারি।

আইআরজিসি-র প্রাক্তন এই কমান্ডার-ইন-চিফ ‘বিকেন্দ্রীভূত মোজাইক প্রতিরক্ষা’ মডেলের প্রবর্তক। সাদ্দাম হোসেনের কেন্দ্রীয় সামরিক কাঠামোর পতন থেকে শিক্ষা নিয়ে জাফারি এমন এক ব্যবস্থা গড়ে তুলেছেন, যেখানে শীর্ষ নেতৃত্বের অবর্তমানেও প্রতিটি বাহিনী স্বাধীনভাবে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে সক্ষম। এই কৌশলের কারণেই খামেনেই বা প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর মৃত্যু সত্ত্বেও ইরানি শাসনব্যবস্থা বা সামরিক মনোবল ভেঙে পড়েনি।

বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, কাতার ও কুয়েতের মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা আঘাত হেনে প্রতিশোধ নিচ্ছে ইরান। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মোজাইক মতবাদ হয়তো ইরানকে সরাসরি জয় এনে দেবে না, তবে এটি নিশ্চিত করেছে যে কোনো ব্যক্তিকেন্দ্রিক আক্রমণে ইরান সহজে আত্মসমর্পণ করবে না। জাফারির এই দূরদর্শী সামরিক মস্তিষ্কের কারণেই পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন লক্ষ্যমাত্রা এখনও অধরা রয়ে গেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *