গ্যাস সংকটে গভীর সমুদ্রে অনিশ্চিত মৎস্যজীবীদের রুটিরুজি

গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়ার পথে মৎস্যজীবীদের প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে তীব্র রান্নার গ্যাস সংকট। দীর্ঘ ৭ থেকে ৮ দিনের ফিশিং যাত্রায় প্রতিটি ট্রলারে ১৪ থেকে ১৮ জন কর্মীর জন্য অন্তত ৩-৪টি সিলিন্ডারের প্রয়োজন হয়। বর্তমানে বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের অপ্রতুলতায় অনেক ট্রলার নির্ধারিত সময়ের আগেই ফিরে আসতে বাধ্য হচ্ছে। ফলে বিপাকে পড়েছেন সুন্দরবন সংলগ্ন হাজার দুয়েক ট্রলারের সঙ্গে যুক্ত শ্রমিকরা।
মৎস্যজীবী সংগঠনগুলোর দাবি, এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকে শুরু হওয়া দুই মাসের সরকারি নিষেধাজ্ঞার আগেই এই গ্যাস সংকট মৎস্যজীবী মহলে চরম হতাশা তৈরি করেছে। অনেক ক্ষেত্রে অতিরিক্ত চড়া দামে সিলিন্ডার সংগ্রহ করতে গিয়ে বাড়ছে ফিশিংয়ের খরচ। ওয়েস্ট বেঙ্গল ইউনাইটেড ফিশারমেন ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন আশঙ্কা করছে, পর্যাপ্ত গ্যাস না পেলে সমুদ্রে ট্রলার নামানোর সংখ্যা ক্রমশ হ্রাস পাবে, যা মৎস্য শিল্পের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
গ্যাসের এই আকাল চলতে থাকলে মৎস্যজীবীরা পুনরায় সুন্দরবনের কাঠ জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারে বাধ্য হতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন পরিবেশকর্মীরা। এতে দীর্ঘস্থায়ী পরিবেশগত ক্ষতির সম্ভাবনা বাড়ছে। একদিকে উপার্জনের অনিশ্চয়তা আর অন্যদিকে বাড়তি খরচের বোঝা—এই দ্বিমুখী সংকটের দ্রুত সমাধান না হলে মৎস্যজীবীদের জীবনযাত্রা ও স্থানীয় অর্থনীতি চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।