খার্গ দ্বীপে মার্কিন হামলার পর নরম ইরান, হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে মিলতে পারে ছাড়

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে ইরানের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ খার্গ দ্বীপের সামরিক ঘাঁটিতে ভয়াবহ হামলার পর তেহরানের অবস্থানে সুর নরম হওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে। সংঘাতের জেরে বন্ধ থাকা বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাস রফতানি পথ ‘হরমুজ প্রণালী’ দিয়ে সীমিত সংখ্যক ট্যাংকার চলাচলের অনুমতি দেওয়ার পরিকল্পনা করছে ইরান। তবে এক্ষেত্রে লেনদেন মার্কিন ডলারের পরিবর্তে চিনা ইউয়ানে করার শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে, যা বিশ্ব তেলের বাজারে নতুন সমীকরণ তৈরি করছে।
জাতিসংঘের মানবিক সতর্কতা অনুযায়ী, এই জলপথ অবরুদ্ধ থাকলে খাদ্য, ওষুধ ও সারের সরবরাহ ব্যাহত হয়ে বিশ্বজুড়ে মানবিক সংকট দেখা দিতে পারে। অন্যদিকে, চিনের আমদানিকৃত তেলের প্রায় ৪৫ শতাংশ এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। ফলে ইরানের এই নতুন কৌশলে বেজিংয়ের সঙ্গে তেহরানের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও মজবুত হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। তবে মার্কিন নৌবাহিনী শীঘ্রই তেল ট্যাংকারগুলোকে নিরাপত্তা দিয়ে পারাপার করানোর ঘোষণা দিয়েছে।
ইরানের তেল রফতানির প্রায় ৯০ শতাংশ নিয়ন্ত্রিত হয় এই খার্গ দ্বীপ থেকে। মার্কিন প্রশাসন দ্বীপটি দখলের বিষয়টিও বিবেচনা করছে বলে জানা গেছে, যা আরব দুনিয়ার অস্থিরতাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। বর্তমানে ইরান তেলের বাজারে নিজের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার পাশাপাশি চিনের সঙ্গে কৌশলগত জোট শক্ত করতে চাইছে। আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের স্থিতিশীলতার ওপর এই পরিস্থিতির সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।