বেজিংয়ের উচ্চাভিলাষী প্রজেক্ট: মহাকাশে ডানা মেলবে দানবীয় ‘যুদ্ধজাহাজ’ লুয়ানিয়াও

বেজিংয়ের ‘ন্যান্টিয়ানমেন’ প্রকল্পের অধীনে ১ লক্ষ ২০ হাজার টন ওজনের এক অতিকায় মহাকাশ যুদ্ধজাহাজ তৈরির পরিকল্পনা বিশ্বজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। ‘লুয়ানিয়াও’ নামের এই কাল্পনিক বিমানবাহী নভযানটি প্রায় ২৪২ মিটার দীর্ঘ এবং এর ডানার বিস্তার ৬০০ মিটারের বেশি হবে বলে জানানো হয়েছে। চিনের সরকারি সংবাদমাধ্যম সিসিটিভি-তে প্রকাশিত ভিডিও অনুযায়ী, এই বিশাল যানটি বায়ুমণ্ডলের শেষ সীমানায় অবস্থান করে হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ও লেজার গান দিয়ে শত্রুপক্ষকে আঘাত হানতে সক্ষম হবে।
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রজেক্টটি শি জিনপিং সরকারের ‘স্ট্র্যাটেজিক সায়েন্স ফিকশন প্রোডাকশন’-এর একটি অংশ। এটি মূলত চিনের উন্নত প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও ভবিষ্যৎ আকাশপথের আধিপত্য প্রদর্শনের একটি কৌশল। কাল্পনিক নকশা অনুযায়ী, এই রণতরীটি ৮৮টি ‘জুয়ান নু’ স্টিলথ ফাইটার ড্রোন বহন করতে পারবে। এই ড্রোনগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হবে এবং বর্তমানের যেকোনো সারফেস-টু-এয়ার মিসাইলকে ফাঁকি দিতে সক্ষম হবে বলে দাবি করা হচ্ছে।
তবে এই উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। ১ লক্ষ ২০ হাজার টনের একটি প্ল্যাটফর্মকে আকাশে ভাসিয়ে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি দক্ষতা বা নিউক্লিয়ার ফিউশন ড্রাইভ প্রযুক্তি বর্তমানে কোনো রাষ্ট্রের আয়ত্তে নেই। সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই প্রকল্প পূর্ণাঙ্গ রূপ পেতে অন্তত তিন দশক সময় লাগতে পারে। আপাতত এটি দক্ষিণ চিন সাগর ও তাইওয়ান ইস্যুতে প্রতিপক্ষ রাষ্ট্রগুলোকে কৌশলগত চাপে রাখার একটি মনস্তাত্ত্বিক প্রচার মাধ্যম হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।