আমেরিকার হামলার পালটা জবাব, মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের মিসাইল হানা

ইরানের রণকৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ খার্গ দ্বীপে আমেরিকার ভয়াবহ বোমাবর্ষণের পর পাল্টা প্রতিশোধ নিল তেহরান। রবিবার সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, বাহরিন ও কুয়েতের মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)। পাশাপাশি ইরাকের বাগদাদ বিমানবন্দর সংলগ্ন মার্কিন কূটনৈতিক ভবন ও সামরিক এলাকাতেও আছড়ে পড়েছে ইরানি মিসাইল। এই পালটা হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের উত্তেজনা এক চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে।
সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর ফুজাইরাতে অবস্থিত দেশটির বৃহত্তম তৈলভাণ্ডারে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। যদিও আমিরশাহী কর্তৃপক্ষ কেবল একটি অগ্নিকাণ্ডের খবর স্বীকার করেছে। অন্যদিকে, বাহরিনের মানামায় ভোরে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। বাহরিন প্রশাসনের দাবি, তারা ইরানের ১২৫টি মিসাইল ও ২০৩টি ড্রোন ধ্বংস করে হামলা প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে। ইজরায়েলও তাদের দিকে ধেয়ে আসা ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র রুখে দেওয়ার দাবি করেছে।
এর আগে শনিবার ভোরে ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপে আমেরিকা ‘ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ’ হামলা চালায়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বীপটির সামরিক ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেওয়ার দাবি করে ফের নতুন হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। ইরানের অর্থনীতির মূল ভিত্তি হিসেবে পরিচিত এই দ্বীপে মার্কিন আগ্রাসনের জবাবে তেহরানের এই বহুমুখী হামলা বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন অস্থিরতা তৈরি করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে হরমুজ প্রণালীতে বড় ধরনের সংকটের আশঙ্কা করা হচ্ছে।