নিষ্কৃতিমৃত্যু: ইথানের জীবনে সিনেমা, হরীশের জীবনে চরম বাস্তব

নিষ্কৃতিমৃত্যু: ইথানের জীবনে সিনেমা, হরীশের জীবনে চরম বাস্তব

ভারতে প্রথমবারের মতো পরোক্ষ নিষ্কৃতিমৃত্যুর (Passive Euthanasia) অনুমতি দিল সুপ্রিম কোর্ট। দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে সম্পূর্ণ পক্ষাঘাতগ্রস্ত ও সংজ্ঞাহীন অবস্থায় থাকা হরীশ রানার শরীর থেকে জীবনদায়ী ব্যবস্থা সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। ২০১৩ সালে পাঁচতলা থেকে পড়ে গিয়ে হরীশ ‘পারসিসটেন্ট ভেজিটেটিভ স্টেট’-এ চলে যান। তাঁর বার্ধক্যজনিত অসুস্থ বাবা-মায়ের আর্থিক ও মানসিক লড়াইয়ের প্রেক্ষাপটে শীর্ষ আদালত এই মানবিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

হরীশের এই বাস্তব জীবন মনে করিয়ে দেয় ১৬ বছর আগের সঞ্জয় লীলা ভন্সালীর ‘গুজ়ারিশ’ সিনেমার কথা। সেখানে জাদুকর ইথান মাসকারেনহাসের চরিত্রে হৃতিক রোশন নিষ্কৃতিমৃত্যুর আবেদন জানিয়েছিলেন। কিন্তু ২০১০ সালের সেই কাল্পনিক কাহিনিতে আদালতের সায় মেলেনি। অথচ বাস্তবে হরীশ রানার ক্ষেত্রে এমসের বিশেষ মেডিক্যাল বোর্ডের রিপোর্টের ভিত্তিতে আদালত জানাল, সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা না থাকলে কৃত্রিমভাবে বাঁচিয়ে রাখা মানবাধিকার লঙ্ঘন।

অরুণা শানবাগের মতো দুর্ভাগা রোগীদের ক্ষেত্রে অতীতে যা সম্ভব হয়নি, হরীশের ক্ষেত্রে সেই আইনি ইতিহাস রচিত হলো। যেখানে রুপোলি পর্দায় নিষ্কৃতিমৃত্যু ছিল এক নান্দনিক উপস্থাপনা, হরীশ ও তাঁর পরিবারের কাছে তা ছিল এক যন্ত্রণাদায়ক দীর্ঘ সংগ্রাম। শেষ পর্যন্ত শোকাতুর বাবা-মায়ের আবেদনে সাড়া দিয়ে আদালত হরীশকে সসম্মানে বিদায় নেওয়ার অধিকার প্রদান করল।


Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *