বাংলাদেশে জামাত-চিন সখ্যতা নিয়ে বিতর্ক, দূতাবাসের সাফাইয়ের পরেও অস্বস্তিতে দিল্লি

বাংলাদেশে জামাত-চিন সখ্যতা নিয়ে বিতর্ক, দূতাবাসের সাফাইয়ের পরেও অস্বস্তিতে দিল্লি

বাংলাদেশে ইদ উপলক্ষে আয়োজিত এক যৌথ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে কট্টরপন্থী দল জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে চিনের ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠতা নিয়ে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। মিরপুরের একটি মাঠে দুঃস্থদের মধ্যে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে চিনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন এবং জামাত নেতা শফিকুর রহমানের উপস্থিতির ছবি প্রকাশ্যে আসতেই আলোচনার ঝড় ওঠে। জামাতের পক্ষ থেকে প্রথমে বিষয়টিকে ‘যৌথ উদ্যোগ’ হিসেবে দাবি করা হলেও, পরে চিনা দূতাবাস একে ‘ভুল বোঝাবুঝি’ বলে উড়িয়ে দেয়। দূতাবাস জানায়, তারা বাংলাদেশের নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে মহম্মদ ইউনুস সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই জামাতের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং নির্বাচনে দলটির অভাবনীয় সাফল্য ভারতের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। বিশেষ করে ভারতের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে জামাতের আধিপত্য বৃদ্ধি পাওয়ায় ওই অঞ্চলে মৌলবাদ প্রসারের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বেজিংয়ের সঙ্গে ঢাকার প্রধান বিরোধী দল জামাতের এই কৌশলগত যোগাযোগ দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে। দিল্লির মতে, কট্টরপন্থী দলটির সঙ্গে চিনের এই ঘনিষ্ঠতা সীমান্ত নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে।

চিনা দূতাবাসের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও বিতর্কের জেরে জামাত তাদের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট থেকে ‘যৌথ উদ্যোগ’ শব্দটি সরিয়ে নিয়েছে। তবে কূটনৈতিক মহলের মতে, এই ঘটনা কেবল একটি সাধারণ কর্মসূচি নয়, বরং বাংলাদেশে চিনের প্রভাব বিস্তারের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনারই অংশ। সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় জামাতের শক্তিবৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর সঙ্গে তাদের সখ্যতা ভারতের জন্য দীর্ঘমেয়াদী নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রক।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *