প্রি-আইপিও বিনিয়োগে আগ্রহী? ঝুঁকি ও লাভের অঙ্ক বুঝে পা ফেলার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের

শেয়ার বাজারে কোনো কো ম্পা নি তালিকাভুক্ত হওয়ার আগের পর্যায় বা ‘প্রি-আইপিও স্টেজ’ বর্তমানে বিনিয়োগকারীদের কাছে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে যেসব কো ম্পা নির ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা উজ্জ্বল এবং বাজারে যাদের ব্র্যান্ড ভ্যালু রয়েছে, তাদের আনলিস্টেড শেয়ার সংগ্রহে অনেকেই আগ্রহী। তবে এই প্রক্রিয়ায় লাভের পাশাপাশি ব্যবসায়িক মডেলের পরিবর্তন বা কর্পোরেট গভর্ন্যান্সের মতো নানা অনিশ্চয়তা ও ঝুঁকিও বিদ্যমান। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা সাধারণত লিস্টিংয়ের আগেই পজিশন নিতে পছন্দ করেন, যাতে ভবিষ্যতে বাড়তি মুনাফার সুযোগ থাকে।
এক্ষেত্রে সঠিক কো ম্পা নি বাছাই করা অত্যন্ত জরুরি। বিনিয়োগের আগে সংশ্লিষ্ট সংস্থার আয়ের ধারাবাহিকতা, অপারেটিং মার্জিন এবং প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা বা ‘কম্পিটিটিভ অ্যাডভান্টেজ’ যাচাই করা প্রয়োজন। অভিজ্ঞ মহলের মতে, প্রোমোটারদের স্বচ্ছতা এবং ম্যানেজমেন্টের বিশ্বাসযোগ্যতা এই স্তরের বিনিয়োগে বড় ভূমিকা পালন করে। যদি কোনো কো ম্পা নিতে ইতিবাচক ‘রেভেন্যু ভিজিবিলিটি’ থাকে এবং নামী প্রাইভেট ইকুইটি সংস্থাগুলোর অংশগ্রহণ দেখা যায়, তবে সেখানে ঝুঁকি তুলনামূলক কম হতে পারে।
প্রথমবার বিনিয়োগকারীদের জন্য সতর্কবার্তা হলো, শুধুমাত্র হুজুগে বা অতিরিক্ত দামে শেয়ার কিনলে ক্ষতির সম্ভাবনা প্রবল। তালিকাভুক্ত সমমানের অন্যান্য কো ম্পা নির (Peer Group) ভ্যালুয়েশনের সঙ্গে তুলনা করে তবেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। ব্যক্তিগতভাবে সঠিক ব্যবসা চিহ্নিত করতে না পারলে পেশাদার পোর্টফোলিও ম্যানেজার বা আর্থিক উপদেষ্টার পরামর্শ নেওয়া শ্রেয়। মনে রাখবেন, প্রি-আইপিও বিনিয়োগে ধৈর্যের পাশাপাশি সঠিক ‘প্রাইস ডিসকভারি’ বা মূল্য নির্ধারণের ক্ষমতা লাভের মূল চাবিকাঠি।