চিনা বিনিয়োগে বড় ছাড়: মোদী সরকারের মাস্টারস্ট্রোক না কি বাধ্যবাধকতা?

চিনা বিনিয়োগে বড় ছাড়: মোদী সরকারের মাস্টারস্ট্রোক না কি বাধ্যবাধকতা?

পশ্চিম এশিয়ায় ইরান-আমেরিকা যুদ্ধের আবহে টালমাটাল ভারতীয় শেয়ার বাজার থেকে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা মুখ ফেরানোয় উদ্বেগে কেন্দ্র। এই পরিস্থিতিতে দেশের ঝিমিয়ে পড়া অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে চিন থেকে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের (FDI) নিয়মে বড়সড় শিথিলতা আনল নরেন্দ্র মোদী সরকার। নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, এখন থেকে বিশেষ শর্তসাপেক্ষে প্রশাসনের আগাম অনুমতি ছাড়াই চিনা সংস্থাগুলি ভারতীয় সংস্থায় ১০ শতাংশ পর্যন্ত বিনিয়োগ করতে পারবে। তবে বিনিয়োগকারী সংস্থাগুলি সংশ্লিষ্ট ভারতীয় প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ নীতি নির্ধারণে কোনো হস্তক্ষেপ করতে পারবে না।

গালওয়ান সংঘর্ষের পর ২০২০ সালে জারি করা কঠোর ‘প্রেস নোট-৩’ নিয়মের কারণে ভারতে চিনা বিনিয়োগ কার্যত বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক আর্থিক সমীক্ষা ও নীতি আয়োগের পরামর্শ মেনে নয়াদিল্লি বুঝতে পারছে যে, উৎপাদন বৃদ্ধি ও দীর্ঘমেয়াদি পুঁজি আকর্ষণে চিনা বিনিয়োগ একটি কার্যকর বিকল্প হতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমি বিনিয়োগকারীরা কেবল মুনাফা তুলে নিতে ব্যস্ত থাকলেও চিনা সংস্থাগুলি ভারতের বাজারে দীর্ঘমেয়াদি লগ্নিতে আগ্রহী, যা দেশের ইউনিকর্ন স্টার্ট-আপ ও উৎপাদন শিল্পকে নতুন অক্সিজেন জোগাতে সক্ষম।

আমেরিকার সাম্প্রতিক কিছু নেতিবাচক মন্তব্য এবং ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কনীতির ফলে ভারতের ভবিষ্যৎ আর্থিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে এক প্রকার অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এমতাবস্থায় ‘চিন প্লাস ওয়ান’ নীতিকে কাজে লাগিয়ে বিশ্ববাজারে নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে কৌশলগতভাবেই বেজিংয়ের দিকে হাত বাড়াল দিল্লি। গালওয়ানের তিক্ততা বজায় রেখেও অর্থনৈতিক স্বার্থে এই ভারসাম্য বজায় রাখার পদক্ষেপ শেয়ার বাজারকে কতটা স্থিতিশীল করে, এখন সেটাই দেখার বিষয়। চিনা পুঁজির এই নতুন প্রবাহ ভারতের থমকে যাওয়া সেনসেক্স ও নিফটির সূচককে পুনরায় ঊর্ধ্বমুখী করতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *