ইন্টারভিউয়ে সাফল্যের চাবিকাঠি, জেনে নিন মেহরাবিয়ানের ‘৭-৩৮-৫৫’ ফর্মুলা

ইন্টারভিউয়ে সাফল্যের চাবিকাঠি, জেনে নিন মেহরাবিয়ানের ‘৭-৩৮-৫৫’ ফর্মুলা

চাকরির প্রতিযোগিতামূলক বাজারে কেবল পুঁথিগত বিদ্যা নয়, বরং মনস্তাত্ত্বিক কৌশল ‘৭-৩৮-৫৫’ ফর্মুলা এখন সাফল্যের অন্যতম মন্ত্র। ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অ্যালবার্ট মেহরাবিয়ানের এই সূত্র অনুযায়ী, যেকোনো কথোপকথনে শব্দের গুরুত্ব মাত্র ৭ শতাংশ। বাকি ৯৩ শতাংশ নির্ভর করে ব্যক্তির অ-মৌখিক বা নন-ভার্বাল যোগাযোগের দক্ষতার ওপর। কর্পোরেট দুনিয়ায় ইন্টারভিউ বোর্ডের মন জয় করতে এখন এই বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির প্রয়োগ অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।

এই ফর্মুলার দ্বিতীয় ধাপ হলো ৩৮ শতাংশ, যা প্রার্থীর কণ্ঠস্বরের ওঠানামা, নম্রতা ও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে যুক্ত। ইন্টারভিউয়াররা শব্দের চেয়ে প্রার্থীর বাচনভঙ্গি এবং কথা বলার সময় সঠিক বিরতির ওপর বেশি গুরুত্ব দেন। অন্যদিকে, সূত্রের সবচেয়ে বড় অংশ ৫৫ শতাংশই হলো শরীরী ভাষা বা বডি ল্যাঙ্গুয়েজ। ইন্টারভিউ রুমে প্রবেশের ভঙ্গি, বসার ধরন এবং সরাসরি চোখের যোগাযোগ (আই কনট্যাক্ট) প্রার্থীর ব্যক্তিত্বের ইতিবাচক বা নেতিবাচক দিকটি ফুটিয়ে তোলে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কথা, কণ্ঠস্বর এবং শরীরী ভাষার মধ্যে সঠিক সামঞ্জস্য না থাকলে প্রার্থীকে অস্বাভাবিক মনে হতে পারে। পোশাক-আশাক থেকে শুরু করে করমর্দন—সবক্ষেত্রেই এই গাণিতিক সূত্র মেনে চললে সাফল্যের সম্ভাবনা বহুগুণ বেড়ে যায়। তাই আয়নার সামনে অনুশীলন এবং মক ইন্টারভিউয়ের মাধ্যমে নিজের জড়তা কাটিয়ে এই কৌশলে দক্ষ হওয়া প্রয়োজন। চাপের মুখে নিজেকে স্থির ও স্বাভাবিক রাখার এই বৈজ্ঞানিক পথই বর্তমানে নিয়োগ পাওয়ার প্রধান হাতিয়ার।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *