“যাঁকেই পাঠান, আমাদের হয়েই কাজ করবেন”— কমিশনকে কেন এমন বার্তা দিলেন মমতা?

“যাঁকেই পাঠান, আমাদের হয়েই কাজ করবেন”— কমিশনকে কেন এমন বার্তা দিলেন মমতা?

২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর থেকেই উত্তপ্ত রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি। দুই দফায় যথাক্রমে ২৩ ও ২৬ এপ্রিল ভোট গ্রহণ এবং ৪ মে ফলাফল ঘোষণার কথা জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তবে ভোট ঘোষণার পরপরই রাজ্যের মুখ্যসচিব ও পুলিশ মহানির্দেশককে (ডিজি) সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি এই পদক্ষেপকে ‘বিজেপির উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কাজ’ বলে অভিহিত করে কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলেছেন।

মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়েছেন যে, শীর্ষ আধিকারিকদের পরিবর্তন করলেও রাজ্যের শাসন ব্যবস্থায় কোনো প্রভাব পড়বে না এবং তৃণমূল সরকারই ক্ষমতায় ফিরবে। এদিকে রাজ্য প্রশাসনও দ্রুত পাল্টা পদক্ষেপ নিয়ে অপসারিত ডিজি পীযূষ পাণ্ডেকে ডিরেক্টর সিকিউরিটি পদে নিয়োগ করেছে। পাশাপাশি বিনীত গোয়েলকে আইবি-র ডিজি ও সুপ্রতীম সরকারকে সিআইডি-র এডিজি পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কমিশনের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েনের নেতৃত্বে সোমবার রাজ্যসভা থেকে ওয়াকআউট করে ঘাসফুল শিবির।

অন্যদিকে, শাসকদলের আগেই নির্বাচনী রণকৌশলে এগিয়ে থাকতে ৪৫টি কেন্দ্রের প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে বামফ্রন্ট। বিমান বসুর ঘোষিত তালিকায় উত্তরপাড়া থেকে মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় ও যাদবপুর থেকে বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের মতো পরিচিত মুখেরা রয়েছেন। একই দিনে ভাঙড়ের নেতা আরাবুল ইসলামের তৃণমূল ত্যাগের ঘোষণা এবং বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকীর হাইকোর্টে মামলা করার সিদ্ধান্ত রাজ্যের নির্বাচনী সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলেছে। পাল্টাপাল্টি অভিযোগে সরগরম হয়ে উঠেছে বাংলার রাজনৈতিক ময়দান।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *