ইরানের অপ্রতিরোধ্য ‘ড্যান্সিং মিসাইল’, ইজরায়েল ও মার্কিন রক্ষাকবচ ব্যর্থ

ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধে প্রথমবারের মতো ব্যবহৃত ‘সেজ্জিল-২’ ক্ষেপণাস্ত্র আন্তর্জাতিক মহলে ‘ড্যান্সিং মিসাইল’ নামে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এই মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রটি তার লক্ষ্যবস্তুর দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় মাঝ আকাশে দিক পরিবর্তন করে অনেকটা ‘নৃত্যের’ মতো ভঙ্গি তৈরি করে। ফলে আয়রন ডোম বা প্যাট্রিয়টের মতো অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও একে শনাক্ত বা ধ্বংস করতে ব্যর্থ হচ্ছে।
প্রায় ২,০০০ কিলোমিটার পাল্লার এই ক্ষেপণাস্ত্রটি কঠিন জ্বালানিচালিত এবং ১,০০০ কেজি পর্যন্ত ওজনের ওয়ারহেড বহন করতে সক্ষম। এর বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো এর ‘ম্যানুভারেবল রি-এন্ট্রি ভেহিকল’ (MaRV) প্রযুক্তি, যা বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের পর অত্যন্ত উচ্চ গতিতে গতিপথ পরিবর্তন করতে পারে। প্রায় ১৭,০০০ কিমি/ঘণ্টা বেগের এই অভাবনীয় গতির কারণেই একে প্রতিরোধ করা কার্যত আসাম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
২০২৬ সালের মার্চ মাসে ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ-৪’-এ ইরান এই ব্রহ্মাস্ত্র ব্যবহার করে তেল আবিবসহ একাধিক মার্কিন ও ইজরায়েলি সামরিক ঘাঁটিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধন করেছে। সস্তা মূল্যের এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো অত্যন্ত ব্যয়বহুল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে অকার্যকর করে রাডার সিস্টেম ও বিমানবন্দর ধ্বংস করেছে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে সেজ্জিল-২ ইরানের প্রধান তুরুপের তাস হয়ে উঠেছে।