যুদ্ধক্ষেত্রে নিষিদ্ধ মারণাস্ত্র: আন্তর্জাতিক আইন ও মানবিকতার সংকট

যুদ্ধক্ষেত্রে নিষিদ্ধ মারণাস্ত্র: আন্তর্জাতিক আইন ও মানবিকতার সংকট

আন্তর্জাতিক মানবিক আইন ও জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী, অতিরিক্ত যন্ত্রণাদায়ক এবং অসামরিক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কায় বেশ কিছু মারণাস্ত্র যুদ্ধক্ষেত্রে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। সম্প্রতি লেবানন ও গাজায় ইজ়রায়েলের বিরুদ্ধে সাদা ফসফরাস বোমা ব্যবহারের অভিযোগ ওঠায় এই বিতর্ক পুনরায় মাথাচাড়া দিয়েছে। ১৯৪২ সালে উদ্ভাবিত নাপাম বোমা থেকে শুরু করে আধুনিক ক্লাস্টার বোমা—সবই জনবসতি এলাকায় ব্যবহারের ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

রাসায়নিক ও জৈবিক অস্ত্রকে মানবসভ্যতার জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হিসেবে গণ্য করা হয়। ১৯৯৩ সালের কনভেনশন অনুযায়ী মাস্টার্ড গ্যাস বা সারিনের মতো স্নায়ু এজেন্ট মজুত রাখা দণ্ডনীয় অপরাধ। অন্যদিকে, ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়াঘটিত জৈবিক অস্ত্র মহামারি সৃষ্টি করতে পারে বলে ১৯২৫ সাল থেকেই নিষিদ্ধ। এছাড়া ল্যান্ডমাইন এবং সম্প্রসারণশীল বুলেটের মতো মারণাস্ত্রগুলোও অটোয়া চুক্তি ও হেগ কনভেনশনের মাধ্যমে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও রাশিয়া, ইজ়রায়েল বা ইরানের মতো দেশগুলোর বিরুদ্ধে মাঝেমধ্যেই এসব অস্ত্র প্রয়োগের অভিযোগ ওঠে। বিশেষ করে ক্লাস্টার বোমা ও ফসফরাস বোমার অনিয়ন্ত্রিত আগুন অসামরিক পরিকাঠামো ধ্বংস করে এবং দীর্ঘমেয়াদী শারীরিক পঙ্গুত্ব ডেকে আনে। বিশ্বজুড়ে শান্তি বজায় রাখতে এবং সাধারণ মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এই আন্তর্জাতিক নিয়মাবলি কঠোরভাবে মেনে চলা অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *