ঋতু পরিবর্তন ও চিকেন পক্স: সাধারণ র্যাশ না কি সংক্রমণ, বুঝবেন যে লক্ষণে

বর্তমানে ঋতু পরিবর্তনের এই সন্ধিক্ষণে বাড়ছে ‘ভ্যারিসেল্লা জস্টার’ ভাইরাসের দাপট, যা চিকেন পক্সের জন্য দায়ী। এটি একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে বায়ুবাহিত রোগ, যা হাঁচি, কাশি বা আক্রান্তের সংস্পর্শে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। প্রাথমিক অবস্থায় সাধারণ ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো জ্বর, মাথাব্যথা ও ক্লান্তি দেখা দিলেও ১০ থেকে ২০ দিনের মধ্যে শরীরে জলযুক্ত ছোট ছোট ফোস্কা বা র্যাশ বের হতে শুরু করে। সাধারণ অ্যালার্জি বা র্যাশের সঙ্গে এর প্রধান পার্থক্য হলো জ্বরের তীব্রতা এবং নির্দিষ্ট সময় ব্যবধানে গুটি প্রকাশ পাওয়া।
সংক্রমণ ধরা পড়লে রোগীকে অবিলম্বে নিভৃতবাসে রাখা জরুরি, বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের থেকে দূরে। এই সময়ে ঘর পরিষ্কার ও বায়ু চলাচলযোগ্য রাখা আবশ্যক। শারীরিক অস্বস্তি বা জ্বরের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ সেবন করা উচিত নয়। তবে জ্বালা কমাতে ক্যালামাইন লোশন ব্যবহার করা যেতে পারে। পাশাপাশি সুস্থ হতে প্রচুর জল পান এবং কম তেল-মশলাযুক্ত সহজপাচ্য খাবার খাওয়া প্রয়োজন।
চিকেন পক্সের জটিলতা এড়াতে সঠিক সময়ে রোগ শনাক্ত করা এবং বিধিনিষেধ মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেকের ধারণা এই রোগ একবার হলে আর হয় না, যা সম্পূর্ণ সঠিক নয়। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেলে যে কেউ পুনরায় আক্রান্ত হতে পারেন। তাই শরীরে অস্বাভাবিক কোনো র্যাশ বা দীর্ঘস্থায়ী জ্বর দেখা দিলে বিলম্ব না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। যথাযথ সতর্কতা ও সঠিক জীবনযাপনই এই ভাইরাসের সংক্রমণ মোকাবিলায় প্রধান হাতিয়ার।