মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি যুদ্ধতেলের বাজারে আগুন, বিশ্বজুড়ে চরম সংকটের আশঙ্কা

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এক বিপজ্জনক মোড় নিয়েছে, যেখানে ইরান এখন সামরিক ঘাঁটির বদলে শত্রুদেশের অর্থনৈতিক ‘লাইফলাইন’ বা জ্বালানি পরিকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করছে। কাতারের রাস লাফান এলএনজি হাবে সাম্প্রতিক হামলা এই নতুন কৌশলেরই অংশ বলে মনে করা হচ্ছে। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এই রপ্তানি কেন্দ্রে উৎপাদন ব্যাহত হলে এশিয়া ও ইউরোপের শক্তি সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, যার প্রভাব পড়বে বিশ্ব অর্থনীতিতে।
বিশেষজ্ঞরা এই পরিস্থিতিকে ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধ’ হিসেবে অভিহিত করছেন। হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল সরবরাহ হয়, যেখানে উত্তেজনা বাড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ইতিমাজধ্যেই ব্যারেল প্রতি ১১০ ডলারে পৌঁছেছে। জ্বালানি শোধনাগার এবং গ্যাস টার্মিনালে ক্রমাগত হামলার ফলে বিশ্বজুড়ে কেবল বিদ্যুৎ উৎপাদন নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি ঘাটতি তৈরির প্রবল আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এই সংকটের আঁচ সরাসরি পড়তে পারে খাদ্য নিরাপত্তাতেও। ইরানের সাউথ পারস গ্যাস ফিল্ড ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সার তৈরির প্রধান উপাদান নাইট্রোজেন সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর ফলে চাষাবাদের খরচ বৃদ্ধি পেয়ে বিশ্বজুড়ে খাদ্যদ্রব্যের দাম আকাশচুম্বী হতে পারে। মূলত শক্তির উৎসকে হাতিয়ার করে শুরু হওয়া এই সংঘাত এখন বিশ্বকে এক ভয়াবহ সাপ্লাই শকের দোরগোড়ায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।