স্মার্টফোনের নেশায় কি ফিকে হচ্ছে গল্পের বই? সংকটে শৈশবের কল্পনাশক্তি

বর্তমান প্রজন্মের শিশুদের মধ্যে গল্পের বই পড়ার আগ্রহ আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পাচ্ছে। ৮ থেকে ১৩ বছর বয়সী অধিকাংশ পড়ুয়াই এখন বইয়ের পাতার চেয়ে স্মার্টফোনের রঙিন দুনিয়া ও সোশ্যাল মিডিয়া রিলসে বেশি আসক্ত। স্কুল ও টিউশনির চাপে পাঠ্যবইয়ের বাইরে অন্য কিছু পড়ার ধৈর্য হারাচ্ছে তারা। ফলে উপেন্দ্রকিশোর বা লীলা মজুমদারের মতো ধ্রুপদী সাহিত্য আজ কেবল হাতেগোনা কয়েকজনের সংগ্রহে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ছে।
প্রকাশক ও শিক্ষাবিদদের মতে, শিশুদের এই বিমুখতার পেছনে বড়দের উদাসীনতা ও পরিবেশের অভাব দায়ী। যৌথ পরিবারের গল্প বলার চল কমে যাওয়া এবং শৈশব থেকেই খাদ্যাভ্যাসের সময় মোবাইল ব্যবহারের প্রবণতা তাদের কল্পনাশক্তিকে বাধাগ্রস্ত করছে। আধুনিক যুগের উপযোগী বিষয়বস্তু ও আকর্ষণীয় অলঙ্করণের অভাবও বাংলা শিশুসাহিত্যকে পিছিয়ে দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। দীর্ঘ উপন্যাসের চেয়ে রঙিন ছবির ছোট গল্প এখন শিশুদের বেশি টানছে।
তবে গল্পের বইয়ের ভবিষ্যৎ একেবারে অন্ধকার নয়। অভিভাবকদের সচেতনতা এবং স্কুলের গ্রন্থাগারগুলোর সক্রিয় ভূমিকা শিশুদের আবার বইমুখী করতে পারে। রূপকথার বদলে কল্পবিজ্ঞান বা সমসাময়িক বাস্তবধর্মী লেখা এবং ছোটবেলা থেকেই বই পড়ার অভ্যাস তৈরি করা জরুরি। সঠিক পরিচর্যা ও উন্নত মানের প্রকাশনা শৈলী বজায় থাকলে স্মার্টফোনের এই যুগেও শিশুরা পুনরায় বইয়ের পাতায় নিজেদের হারানো জগত খুঁজে পাবে বলে আশাবাদী সংশ্লিষ্ট মহল।