ভোটের নির্ঘণ্টের পরেই প্রশাসনে বড় রদবদল: ভিনরাজ্যে বদলি মীনা, তুঙ্গে রাজনৈতিক বিতর্ক

ভোটের নির্ঘণ্টের পরেই প্রশাসনে বড় রদবদল: ভিনরাজ্যে বদলি মীনা, তুঙ্গে রাজনৈতিক বিতর্ক

রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পরেই প্রশাসনিক স্তরে বড়সড় রদবদল ঘটাল নির্বাচন কমিশন। গত রবিবার মধ্যরাতে মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী এবং স্বরাষ্ট্রসচিব জগদীশপ্রসাদ মীনাকে তাঁদের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। নতুন মুখ্যসচিব হিসেবে ১৯৯৩ ব্যাচের আইএএস আধিকারিক দুষ্মন্ত নারিওয়ালা এবং স্বরাষ্ট্রসচিব পদে ১৯৯৭ ব্যাচের সংঘমিত্রা ঘোষকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, ভোট প্রক্রিয়া চলাকালীন অপসারিত আধিকারিকরা নির্বাচনের কোনও কাজে যুক্ত থাকতে পারবেন না।

প্রশাসনিক এই রদবদল কেবল সচিবালয়েই সীমাবদ্ধ থাকেনি, পুলিশ বিভাগেও বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। রাজ্য পুলিশের ডিজিপি পীযূষ পাণ্ডেকে সরিয়ে সেই পদে সিদ্ধনাথ গুপ্তকে এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনার সুপ্রতিম সরকারের বদলে অজয় নন্দকে নিয়োগ করা হয়েছে। এরই মধ্যে অপসারিত স্বরাষ্ট্রসচিব জগদীশপ্রসাদ মীনাকে তামিলনাড়ুর একটি বিধানসভা কেন্দ্রে ভোট পর্যবেক্ষক হিসেবে পাঠিয়েছে কমিশন। এই পদক্ষেপের ফলে নন্দিনী চক্রবর্তীর ভবিষ্যৎ দায়িত্ব নিয়েও জল্পনা তৈরি হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের এই আকস্মিক সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই পদক্ষেপকে ‘মধ্যরাতের সিদ্ধান্ত’ বলে কটাক্ষ করেছেন এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে প্রতিবাদলিপি পাঠিয়েছেন। অন্যদিকে, বিরোধী শিবির আগে থেকেই বিতর্কিত আধিকারিকদের ভিনরাজ্যে পাঠানোর দাবি তুলে আসছিল। সব মিলিয়ে, নির্বাচনের প্রাক্কালে শীর্ষ আমলা ও পুলিশ আধিকারিকদের এই গণবদল রাজ্যের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সমীকরণকে এক নতুন মোড় দিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *