ভোটার তালিকায় ‘বিচারাধীন’ গেরো, অনিশ্চয়তায় প্রার্থীর মনোনয়ন ও ভোটাধিকার

নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত সাম্প্রতিক তালিকায় প্রায় ৬০ লক্ষ ভোটারের নাম ‘বিচারাধীন’ বা অ্যাডজুডিকেশন প্রক্রিয়ায় থাকায় রাজ্যে রাজনৈতিক জটিলতা তৈরি হয়েছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের ভোটাধিকারের পাশাপাশি বহু সম্ভাব্য প্রার্থীর মনোনয়ন জমা দেওয়াও এখন প্রশ্নের মুখে। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর জানিয়েছে, সোমবার পর্যন্ত প্রায় ২০ লক্ষ ভোটারের তথ্যগত অমিল নিষ্পত্তি করা হয়েছে। বাকিদের যাচাইয়ের কাজ দ্রুত গতিতে চালাচ্ছেন ৭০৫ জন বিচার বিভাগীয় আধিকারিক।
এই তালিকায় রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের পাঁচজন সংখ্যালঘু বিধায়ক এবং মন্ত্রী শশী পাঁজার নাম থাকায় তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে, বিজেপির প্রথম দফার প্রার্থী তালিকায় থাকা আউশগ্রামের কলিতা মাজির নামও এই তালিকায় রয়েছে, যা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক অধিকার খর্ব হওয়ার আশঙ্কায় বাম নেতৃত্ব এই বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তাঁদের দাবি, এই তালিকার নিষ্পত্তি না করে নির্বাচনী প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া উচিত নয়।
কমিশন সূত্রে খবর, আগামী সাত দিনের মধ্যে বিচারাধীন ভোটারদের প্রথম পরিপূরক তালিকা প্রকাশ করা হতে পারে। বর্তমানে তথ্য যাচাইয়ের শুনানিতে ডাকা হচ্ছে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের। রাজনৈতিক দলগুলোর মতে, ভোটার তালিকার এই কারিগরি ত্রুটি বা ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ নির্বাচনী লড়াইয়ের আবহে বাড়তি দুশ্চিন্তা যোগ করেছে। এখন দেখার, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কমিশন এই বিপুল সংখ্যক ভোটারের তথ্য সংশোধন করে তাঁদের ভোটাধিকার ও প্রার্থী হওয়ার আইনি পথ সুগম করতে পারে কি না।