শিশুদের জ্বরের পথ্য: সুস্থতায় ওষুধের চেয়েও কার্যকর সঠিক পুষ্টি

মৌসুম পরিবর্তনের এই সময়ে ঘরে ঘরে শিশুদের জ্বর, সর্দি ও কাশির প্রকোপ বাড়ছে। চিকিৎসকদের মতে, কেবল ওষুধের ওপর নির্ভর না করে ‘ফুড অ্যাজ মেডিসিন’ বা পথ্যের ওপর জোর দেওয়া জরুরি। বয়সভেদে শিশুদের খাবারের তালিকায় পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। ছয় মাস থেকে দুই বছর বয়সী শিশুদের জন্য নরম খিচুড়ি, সবজি বা চিকেন স্যুপ এবং সেদ্ধ আপেল আদর্শ। দুই থেকে পাঁচ বছর বয়সীদের ডায়েটে ডিম সেদ্ধ, ওটস ও পর্যাপ্ত ফলের রস রাখা উচিত। পাঁচ বছরের বেশি বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে হালকা বাড়িতে তৈরি খাবার যেমন চিকেন স্টু বা দই-চিঁড়ে দেওয়া যেতে পারে।
অসুস্থ অবস্থায় শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ভিটামিন-সি যুক্ত তুলসী চা বা লেবুর শরবত অত্যন্ত কার্যকর। তবে এই সময়ে দুধ-চিনি দেওয়া চা বা কফি এড়িয়ে চলাই ভালো, কারণ এতে শরীরে প্রদাহ সৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া জাঙ্ক ফুড, অতিরিক্ত মিষ্টিজাতীয় খাবার এবং কোল্ড ড্রিঙ্কস শিশুর হজমে সমস্যা তৈরি করতে পারে। সঠিক হাইড্রেশন বজায় রাখতে ডাবের জল বা নুন-চিনির শরবত বারবার খাওয়ানো প্রয়োজন।
সুস্থতার জন্য বাসি খাবার, প্রক্রিয়াজাত মাংস (সসেজ, সালামি) এবং ফ্রিজে রাখা পাউরুটি থেকে শিশুকে দূরে রাখুন। অতিরিক্ত মশলাযুক্ত খাবার বর্জন করে সহজপাচ্য পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুললে শিশু দ্রুত সেরে উঠবে। মনে রাখবেন, সঠিক খাদ্যাভ্যাস কেবল রোগ সারায় না, বরং ভবিষ্যতে সংক্রমণ প্রতিরোধের শক্তিও জোগায়। তাই শিশুর অসুস্থতায় খাবারের গুণমান ও পরিচ্ছন্নতার দিকে বিশেষ নজর দেওয়া প্রতিটি অভিভাবকের প্রধান দায়িত্ব।