ভোটের ময়দানেও ব্রাত্য হরবোলা শিল্পীদের জাদুকরী কণ্ঠ, হারিয়ে যাচ্ছে জনসভার চিরাচরিত বিনোদন

ভোটের ময়দানেও ব্রাত্য হরবোলা শিল্পীদের জাদুকরী কণ্ঠ, হারিয়ে যাচ্ছে জনসভার চিরাচরিত বিনোদন

ভোটের উত্তাপ বাড়লেও কাটোয়ার জনসভাগুলোতে এখন আর শোনা যাচ্ছে না পশুপাখির ডাক কিংবা প্রিয় নায়কদের কণ্ঠস্বর। একসময় রাজনৈতিক প্রচারের অন্যতম আকর্ষণ ছিলেন হরবোলা শিল্পীরা। জনসভা শুরুর আগে সাধারণ মানুষকে আকৃষ্ট করতে তাঁদের ডাক পড়ত। মঞ্চে দাঁড়িয়ে নিখুঁত অঙ্গভঙ্গিতে নানা কণ্ঠস্বর নকল করে মানুষের বিনোদন জোগাতেন তাঁরা। কিন্তু আধুনিক প্রচারের জোয়ারে সেই পুরনো ঐতিহ্য আজ বিলুপ্তির পথে।

বর্তমানে রাজনৈতিক দলগুলো প্রচারের ধরনে আমূল বদল এনেছে। হরবোলা শিল্পীদের পরিবর্তে এখন জায়গা করে নিয়েছে ডিজে সাউন্ড সিস্টেম, রাজনৈতিক থিম সং এবং সোশ্যাল মিডিয়া অ্যানিমেশন। প্রার্থীরা এখন নিজস্ব ডিজিটাল কন্টেন্টের মাধ্যমেই ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। ফলে ভোটের মরশুমেও ব্রাত্য থেকে যাচ্ছেন কাটোয়ার বাঁদরা গ্রামের বামাপদ গড়াইয়ের মতো দক্ষ শিল্পীরা, যাঁদের জীবন এখন অর্থকষ্টে জর্জরিত।

আগেকার নির্বাচনে সুড্ডা বা গোয়াই অঞ্চলের সভাগুলোতে হরবোলা শিল্পীদের উপস্থিতি ছিল বাধ্যতামূলক। ১০ বছর আগেও বামাপদবাবুরা সভায় লোক জমানোর প্রধান কারিগর ছিলেন। কিন্তু এখন সরকারি মেলা ছাড়া কোথাও তাঁদের ডাক পড়ে না। মঙ্গলকোট ও আউশগ্রামের শিল্পীরাও একই আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন। প্রযুক্তির ভিড়ে প্রান্তিক এই লোকশিল্পীদের শৈল্পিক ছোঁয়া এবং উপার্জনের পথ—দুই-ই এখন থমকে গিয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *