নদীয়ায় তৃণমূলের প্রার্থী তালিকায় বড় চমক করিমপুরে সোহম, বাদ পড়লেন মুকুটমণি

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে নদীয়া জেলার ১৭টি আসনে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে বহুমুখী কৌশলের ইঙ্গিত দিল তৃণমূল কংগ্রেস। উত্তর ও দক্ষিণ নদীয়া দুই সাংগঠনিক জেলাতেই অভিজ্ঞতা, নতুন মুখ এবং সামাজিক সমীকরণের সমন্বয় ঘটানো হয়েছে। বিশেষত, নদীয়া উত্তর জেলার করিমপুর আসনে বিদায়ী বিধায়কের পরিবর্তে তারকা প্রার্থী সোহম চক্রবর্তীকে মনোনীত করা হয়েছে। অন্যদিকে, তেহট্টে মতুয়া ভোট ব্যাংক সুসংহত করতে দিলীপ পোদ্দারকে প্রার্থী করেছে দল। স্বচ্ছ ভাবমূর্তি বজায় রাখতে পলাশীপাড়ায় মানিক ভট্টাচার্যের বদলে রুকবানুর রহমানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
নদীয়া দক্ষিণ জেলার প্রার্থী তালিকায় এবার বিশেষভাবে নজর কেড়েছে ‘ডাক্তার ফ্যাক্টর’। হরিণঘাটা, কল্যাণী এবং রানাঘাট দক্ষিণ কেন্দ্রে চিকিৎসা পেশার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিত্বদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এই কৌশলী রদবদলে কপাল পুড়েছে রানাঘাট দক্ষিণের বিধায়ক মুকুটমণি অধিকারীর; তাঁর পরিবর্তে টিকিট পেয়েছেন ডাক্তার সৌগতকুমার বর্মন। এছাড়া কল্যাণী ও কৃষ্ণনগর উত্তরে যথাক্রমে অতীন্দ্রনাথ মণ্ডল ও অভিনব ভট্টাচার্যের মতো নতুন মুখদের ওপর আস্থা রেখেছে ঘাসফুল শিবির।
সাংগঠনিক রদবদলের পাশাপাশি চাপড়া আসনে গতবারের নির্দল প্রার্থী জেবের শেখকে টিকিট দিয়ে বিদ্রোহী কাঁটা উপড়াতে চাইছে তৃণমূল। একইসঙ্গে শান্তিপুর, নবদ্বীপ ও কৃষ্ণনগর দক্ষিণের মতো আসনগুলোতে পুরনো বিধায়কদের ওপরই ভরসা রাখা হয়েছে। রানাঘাট উত্তর-পূর্বে মহিলা নেত্রী বর্ণালী দেরায় এবং চাকদহে যুবনেতা শুভঙ্কর সিংহকে প্রার্থী করে নবীন-প্রবীণের ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা করা হয়েছে। সব মিলিয়ে, হারানো জমি পুনরুদ্ধার ও মতুয়া অধ্যুষিত অঞ্চলে আধিপত্য বিস্তারে একগুচ্ছ চমকপ্রদ সিদ্ধান্ত নিল শাসক দল।