ঝাড়গ্রামে বিজেপির বাজি ‘কোটি টাকাসহ ধৃত’ লক্ষ্মীকান্ত, তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে ঝাড়গ্রাম কেন্দ্রে লক্ষ্মীকান্ত সাউকে প্রার্থী করায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময় আসানসোল স্টেশন থেকে এক কোটি টাকাসহ রেল পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন এই বিজেপি নেতা। তৎকালিন বিজেপি রাজ্য সভাপতির ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত লক্ষ্মীকান্তের এই পুরনো ইতিহাস সামনে আসতেই তৃণমূল নেতৃত্ব সরব হয়েছে। তাদের অভিযোগ, নির্বাচনের আগে কালো টাকা ছড়িয়ে ভোট কেনার চেষ্টা করছে বিজেপি।
গোপীবল্লভপুরের এক সাধারণ সবজি বিক্রেতা থেকে দিল্লিতে বিজেপির রাজনীতিতে হাতেখড়ি হওয়া লক্ষ্মীকান্তের দ্রুত উত্থান নিয়ে দলের অন্দরেই চর্চা চলছে। উনিশের ভোটে তিনি পশ্চিম মেদিনীপুরে দলের কোষাধ্যক্ষের দায়িত্বে ছিলেন। তবে আর্থিক কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে প্রার্থী করায় জেলা বিজেপির নিচুতলার কর্মীদের একাংশ ক্ষুব্ধ। বিতর্কিত ভাবমূর্তির প্রার্থীর হয়ে প্রচার করতে গিয়ে তারা সাধারণ মানুষের কাছে বিড়ম্বনার মুখে পড়ার আশঙ্কা করছেন।
বিজেপি প্রার্থী লক্ষ্মীকান্ত সাউ অবশ্য সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, তৃণমূল চক্রান্ত করে তাকে গ্রেপ্তার করিয়েছিল এবং ওই টাকা দলেরই ছিল। বুধবার মন্দিরে পুজো দিয়ে তিনি প্রচার শুরু করলেও জেলা বিজেপি নেতৃত্ব অস্বস্তি এড়াতে পারছে না। অন্যদিকে, তৃণমূল নেতা প্রসূন ষড়ঙ্গি জানিয়েছেন, জেলাবাসী দুর্নীতিতে অভিযুক্ত প্রার্থীকে কোনোভাবেই মেনে নেবেন না। সব মিলিয়ে লক্ষ্মীকান্তের প্রার্থীপদ ঘিরে ঝাড়গ্রামে রাজনৈতিক উত্তেজনা এখন চরমে।