মুর্শিদাবাদে হুমায়ুন কবীরের মাস্টারস্ট্রোক দুই কেন্দ্রে প্রার্থী হয়ে তৃণমূলের অস্বস্তি বাড়ালেন বিদ্রোহী নেতা

বাংলার রাজনীতিতে ‘আনপ্রেডিক্টেবল’ হিসেবে পরিচিত ভরতপুরের বিদায়ী বিধায়ক হুমায়ুন কবীর আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে রেজিনগর ও নওদা—এই দুই কেন্দ্র থেকে লড়ার ঘোষণা করেছেন। নিজের দল ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’ থেকে তাঁর এই মনোনয়ন জমা দেওয়ার সিদ্ধান্ত মুর্শিদাবাদ জেলা তৃণমূল নেতৃত্বের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। বিশেষ করে রেজিনগরে একটি বিশাল মসজিদ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি স্থানীয় ধর্মীয় ও রাজনৈতিক সমীকরণে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, হুমায়ুনের এই পদক্ষেপ তৃণমূলের সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কে সরাসরি আঘাত হানতে পারে। জেলাজুড়ে তাঁর দলের প্রার্থী দেওয়ার ঘোষণা ঘাসফুল শিবিরের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। শুধু মুর্শিদাবাদ নয়, কলকাতায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ভবানীপুর কেন্দ্রে পুনম বেগমকে প্রার্থী করে বড় চমক দিয়েছেন তিনি। এছাড়া কান্দিতে ফিরহাদ হাকিমের প্রাক্তন জামাতা ইয়াসিন হায়দারকে প্রার্থী করে লড়াইকে আরও কঠিন করে তুলেছেন।
বিজেপি এই ঘটনাকে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ও দুর্নীতির বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছে। হুমায়ুন কবীর শাসক দলকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলেছেন, তিনি মানুষের উন্নয়ন ও অধিকার ফেরাতে এই লড়াইয়ে নেমেছেন। যদি তিনি সংখ্যালঘু ভোটের একটি বড় অংশ নিজের দিকে টানতে সফল হন, তবে মুর্শিদাবাদের অন্তত ৮-১০টি আসনে তৃণমূলের জয় পাওয়া আসাম্ভব হয়ে দাঁড়াতে পারে। সব মিলিয়ে মে মাসের নির্বাচনের আগে মুর্শিদাবাদের রাজনৈতিক পারদ এখন তুঙ্গে।