আইপ্যাক মামলায় সুপ্রিম কোর্টে চরম ভর্ৎসনার মুখে রাজ্য: তদন্তে বাধার অভিযোগে ক্ষুব্ধ শীর্ষ আদালত

আইপ্যাক মামলায় সুপ্রিম কোর্টে চরম ভর্ৎসনার মুখে রাজ্য: তদন্তে বাধার অভিযোগে ক্ষুব্ধ শীর্ষ আদালত

আইপ্যাক দপ্তরে ইডির তল্লাশিতে বাধা দেওয়া এবং তথ্যপ্রমাণ লোপাটের অভিযোগে সুপ্রিম কোর্টে বড়সড় ধাক্কা খেল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র ও বিচারপতি কে. ভি. বিশ্বনাথনের ডিভিশন বেঞ্চ রাজ্য প্রশাসনের ভূমিকায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। তল্লাশি চলাকালীন খোদ মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতি এবং ইডির কাজে হস্তক্ষেপের বিষয়টি নিয়ে আদালত সটান প্রশ্ন তোলে, তদন্তে বাধা দিলে কেন্দ্রীয় সংস্থা কি কেবল নীরব দর্শক হয়ে থাকবে?

কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দাবি, কয়লা পাচার সংক্রান্ত প্রায় ২,৭৪২ কোটি টাকার দুর্নীতির ডিজিটাল তথ্য সংগ্রহের সময় মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর অনুগামীরা সেখানে প্রবেশ করেন। অভিযোগ উঠেছে, প্রভাব খাটিয়ে গুরুত্বপূর্ণ হার্ড ড্রাইভ ও নথি সরিয়ে ফেলা হয়েছে। এমনকি রাজ্য পুলিশ যেভাবে ইডি আধিকারিকদের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করেছে, তাকেও ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছে আদালত। শুনানির তারিখ পিছনোর আর্জি খারিজ করে দিয়ে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানায় যে, বিচারপ্রক্রিয়াকে নির্দেশ দেওয়ার এক্তিয়ার রাজ্যের নেই।

এই আইনি টানাপোড়েন তৃণমূলের নির্বাচনী তহবিলের স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে। তদন্তে বাধা দেওয়ার এই ‘বেপরোয়া’ মনোভাব আদতে বড় কোনো দুর্নীতি আড়ালের চেষ্টা কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল শুরু হয়েছে। আদালতের কড়া পর্যবেক্ষণের পর সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা রাজ্য সরকারের জন্য চরম অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ালো। রক্ষাকবচ পাওয়ার আশায় শীর্ষ আদালতে গেলেও বর্তমান পরিস্থিতি নবান্নের জন্য হিতে বিপরীত হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *