নির্বাচন কমিশনের নজিরবিহীন বদলি নিয়ে মমতার হুঙ্কার: রুখে দাঁড়াবে পশ্চিমবঙ্গ

রাজ্যের আইবি, এসটিএফ এবং সিআইডির মতো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের ৫০ জনেরও বেশি সিনিয়র আধিকারিককে ঢালাও বদলির জেরে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই পদক্ষেপকে ‘অঘোষিত জরুরি অবস্থা’ ও ‘রাষ্ট্রপতি শাসনের রূপ’ হিসেবে বর্ণনা করে তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপি ও কমিশন যোগসাজশ করে রাজ্যের প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে পঙ্গু করার চেষ্টা চালাচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে এই নজিরবিহীন হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সামাজিক মাধ্যমে কমিশনের বদলি নির্দেশিকাগুলি প্রকাশ করে প্রশ্ন তুলেছেন, কেন শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গকে এভাবে নিশানা করা হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, স্বৈরাচারী ভঙ্গিতে আধিকারিকদের ভিন রাজ্যে পাঠিয়ে রাজ্য দখলের অপচেষ্টা চলছে। এই পরিস্থিতির বিরুদ্ধে তিনি রাজ্যবাসীকে একজোট হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বাংলার মানুষ এই প্রাতিষ্ঠানিক কারচুপির বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তুলবে এবং ভয়ের কাছে মাথা নত করবে না।
পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় বিজেপি নেতা রাহুল সিংহ মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ খারিজ করে প্রশ্ন তুলেছেন তৃণমূল সরকারের পূর্ববর্তী পুলিশ আধিকারিক বদলির যৌক্তিকতা নিয়ে। তবে মুখ্যমন্ত্রী তাঁর অবস্থানে অনড় থেকে জানান, ভোটার তালিকা প্রকাশে দেরি এবং ধারাবাহিক আধিকারিক অপসারণ আসলে সাধারণ মানুষকে হেনস্থা করার কৌশল। তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, এই প্রশাসনিক লড়াইয়ে তিনি এবং রাজ্যবাসী অপসারিত সরকারি আধিকারিকদের পাশেই রয়েছেন।