প্রশাসনিক রদবদল নিয়ে কমিশনকে তীব্র আক্রমণ মমতার, ‘বাংলাকে নিশানা’র অভিযোগ

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যে ব্যাপক প্রশাসনিক রদবদল নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, নজিরবিহীনভাবে বাংলাকে নিশানা করছে কমিশন, যা গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্য বিপজ্জনক। নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারির আগেই মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব এবং ডিজিপি-সহ একাধিক উচ্চপদস্থ আধিকারিককে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। এডিজি, আইজি এবং জেলা শাসকদের এই গণবদলকে তিনি সরাসরি রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, আইবি, এসটিএফ এবং সিআইডির মতো গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার আধিকারিকদের সরিয়ে রাজ্যের প্রশাসনিক কার্যকারিতাকে দুর্বল করার চেষ্টা চলছে। ভোটার তালিকা প্রকাশে বিলম্ব এবং সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ লঙ্ঘন নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন। মমতার মতে, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরপেক্ষতা নষ্ট করে পরিকল্পিতভাবে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিকে তিনি ‘অঘোষিত জরুরি অবস্থা’র সঙ্গে তুলনা করে কমিশনের দ্বিমুখী নীতির কঠোর সমালোচনা করেন।
বিজেপির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানান, ভয় দেখিয়ে বাংলাকে দমিয়ে রাখা যাবে না। প্রশাসনিক রদবদলের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ কায়েমের চেষ্টা হলেও তিনি সরকারি আধিকারিকদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। নাগরিকত্ব ইস্যু এবং নির্বাচনী পর্যবেক্ষক নিয়োগের অসঙ্গতি তুলে ধরে তিনি দাবি করেন, এই প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলার জবাব সাধারণ মানুষই দেবেন। তাঁর মতে, এটি শুধুমাত্র বদলি নয়, বরং বাংলার স্বাধিকারের ওপর আঘাত।