হরমুজ প্রণালীতে ইরানের পরবর্তী লক্ষ্য কি ইন্টারনেট? বিশ্বজুড়ে ভয়াবহ সংযোগ বিচ্ছিন্নের আশঙ্কা

হরমুজ প্রণালীতে ইরানের পরবর্তী লক্ষ্য কি ইন্টারনেট? বিশ্বজুড়ে ভয়াবহ সংযোগ বিচ্ছিন্নের আশঙ্কা

ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধের আবহে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের পর এবার বড়সড় ইন্টারনেট বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। হরমুজ প্রণালীতে ইরান সমুদ্রের নিচে মাইন পুঁতে রাখায় এবং জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেওয়ায় বিপাকে পড়েছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, তেলের পর ইরানের পরবর্তী লক্ষ্য হতে পারে সমুদ্রের তলদেশের ইন্টারনেট কেবল। এই প্রণালীর অগভীর জলে থাকা ফাইবার অপটিক কেবলগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হলে ভারতসহ বিশ্বের একটি বড় অংশের ডিজিটাল পরিষেবা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়তে পারে।

বর্তমানে পারস্য উপসাগরে AAE-1 এবং টাটা-TGN Gulf-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ সাবসি কেবলগুলো সরাসরি ভারতের আন্তর্জাতিক ডেটা সার্ভিসের সঙ্গে যুক্ত। এছাড়া আমাজন, গুগল ও মাইক্রোসফটের মতো প্রযুক্তি জায়ান্টদের বিশাল ডেটা সেন্টারগুলো এই অঞ্চলের ওপর নির্ভরশীল। লোহিত সাগরের তলদেশে থাকা প্রায় ১৭টি কেবল ইউরোপ, এশিয়া ও আফ্রিকার ইন্টারনেট ট্র্যাফিক নিয়ন্ত্রণ করে। কোনো কারণে এই কেবলগুলো কাটা পড়লে বা মাইন বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত হলে ভিডিও কল, ব্যাংকিং এবং এআই (AI) পরিষেবা দীর্ঘ সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

ভৌগোলিক কারণে হরমুজ প্রণালীর সরু অংশে জলের গভীরতা মাত্র ২০০ ফুট হওয়ায় এই কেবলগুলো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নিরাপত্তাজনিত কারণে বিশেষ মেরামতি জাহাজগুলো ওই এলাকায় প্রবেশ করতে পারছে না, ফলে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলেও তা সারানো প্রায় আসাম্ভব। ইরান ইচ্ছাকৃতভাবে কেবল কেটে দিলে বা দুর্ঘটনাবশত মাইন বিস্ফোরণ ঘটলে বিশ্বজুড়ে কয়েক সপ্তাহ বা মাসব্যাপী ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট চলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *